এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল পুয়ের্তো রিকান বক্সার প্রিচার্ড কোলন মারা গেছেন। রিংয়ে লড়াইয়ের সময় মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পর গত ১১ বছর ধরে তিনি কথা বলা, হাঁটাচলা বা নিজের কোনো কাজ নিজে করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা রিচার্ড কোলন।
ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় রিচার্ড কোলন লিখেছেন, তিনি তার ছেলের ইচ্ছা পূরণের জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল তাকে পুয়ের্তো রিকোতে ছুটিতে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি তা করতে পারেননি। ফ্লোরিডায় বসবাসরত প্রিচার্ডের পরিবার গত ১১ বছর ধরে তার সেবা ও পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
২০১৫ সালে আমেরিকার বক্সার টেরেল উইলিয়ামসের মুখোমুখি হওয়ার সময় প্রিচার্ড কোলনের ক্যারিয়ার রেকর্ড ছিল ১৬-০। সুপার ওয়েল্টারওয়েট সেই লড়াইয়ে কোলন অভিযোগ করেছিলেন যে, উইলিয়ামস বারবার তার মাথার পেছনের অংশে আঘাত করছেন। সেই ঘটনায় উইলিয়ামস একটি পয়েন্টও হারিয়েছিলেন। নবম রাউন্ডে দুইবার পড়ে যাওয়ার পর কোলনের কর্নার তার গ্লাভস খুলে ফেললে লড়াইটি শেষ হয় এবং তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
দ্য সান-এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমে জ্ঞান হারানোর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই লড়াইয়ের পর থেকেই তিনি স্থায়ীভাবে অচেতন বা ভেজিটেটিভ অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও থেরাপি সত্ত্বেও তিনি আর কখনো কথা বলার শক্তি ফিরে পাননি।
ওয়ার্ল্ড বক্সিং অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে শোক প্রকাশ করে লিখেছে, প্রিচার্ড কোলন শেষ পর্যন্ত একজন যোদ্ধা ছিলেন। তার সাহস, শক্তি এবং লড়াইয়ের চেতনা রিংয়ের সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তার জীবনের এই দীর্ঘ লড়াই পরিবারের অটুট ভালোবাসা ও সহনশীলতার সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।
নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোলনের মা জানিয়েছেন যে, তার পরিবার রিংসাইড ডাক্তার এবং লড়াইয়ের আয়োজকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল, যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
