ডাকযোগে কাগজের চেক পাঠানো আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভোক্তা অধিকারকর্মীদের মতে, বর্তমানে চেকে জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকানরা ডেবিট কার্ড বা গিফট কার্ড জালিয়াতির চেয়ে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বেশি অর্থ হারিয়েছেন। যদিও বর্তমানে চেক ব্যবহারের হার কমছে, তবে উচ্চমূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে চেক ব্যবহারের প্রবণতা রয়ে গেছে, যা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
ইন্ডিপেনডেন্ট কমিউনিটি ব্যাংকার্স অফ আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভস অ্যান্ড পলিসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট অ্যানচিন বলেন, অপরাধীরা জানে যে ডাকযোগে পাঠানো চেকগুলো সাধারণত ১০ ডলারের নয়, বরং ১০ হাজার ডলারের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট লেনদেনের মাত্র ৩ শতাংশ ছিল কাগজের চেক। আগে মানুষ দৈনন্দিন কেনাকাটা বা বিল পরিশোধে চেক ব্যবহার করলেও এখন তা মূলত ঠিকাদার বা বড় ধরনের কর পরিশোধের মতো এককালীন বড় লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এখন বড় পরিসরে চেক চুরি করছে। ওয়েলস ফার্গোর প্রতারণা ও দাবি বিভাগের প্রধান জো বার্নার্ডোর মতে, চেক ব্যবস্থাটি এখনো মৌলিকভাবে একই রয়ে গেছে, যার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে প্রতারকরা। অপরাধীরা আবাসিক মেইলবক্স বা ইউএসপিএস ড্রপ বক্স থেকে চেক চুরি করে এবং এসিটোন, ব্লিচ বা রাবিং অ্যালকোহল ব্যবহার করে নাম মুছে ফেলে। এরপর তারা চেকটির প্রাপক ও টাকার পরিমাণ পরিবর্তন করে নিজেরা জমা দেয় অথবা ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে দেয়। ভোক্তা ফেডারেশন অফ আমেরিকার আর্থিক সেবা পরিচালক অ্যাডাম রাস্টের মতে, চেকে থাকা রাউটিং নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল তথ্য।
কনজিউমার রিপোর্টসের অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর চাক বেল নিজেই ২০২১ সালে চেক জালিয়াতির শিকার হন, যেখানে তার একটি হিটিং বিল চুরি করে ২৫ হাজার ডলারে রূপান্তর করা হয়েছিল। তিনি জানান, ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত নন এমন অনেক মানুষ এখনো চেক ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল সরকারের লেনদেনে কাগজের চেক পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।
ভোক্তা অধিকারকর্মীরা মনে করেন, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড, ইলেকট্রনিক চেক বা ব্যাংকের বিল-পে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করা অনেক বেশি নিরাপদ। ব্যাংকিং শিল্প জেলের (Zelle) মতো সেবা ব্যবহারের পক্ষপাতী, কারণ এটি সরাসরি ব্যাংকিং অ্যাপের সাথে যুক্ত। কনজিউমার রিপোর্টসের ২০২৩ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্যাশ অ্যাপ এবং অ্যাপল ক্যাশ নিরাপত্তার দিক থেকে উচ্চ রেটিং পেয়েছে, আর গোপনীয়তার ক্ষেত্রে অ্যাপল সেরা অবস্থানে রয়েছে।
যদি চেক পাঠাতেই হয়, তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা স্থায়ী কালি বা অমোচনীয় কলম ব্যবহারের পরামর্শ দেন, কারণ বলপয়েন্ট কলমের কালি খুব সহজেই মুছে ফেলা যায়। চেক লেখার সময় কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা এবং মেইলবক্সে চেক না রেখে সরাসরি পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া নিরাপদ। এছাড়া নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করা এবং প্রাপক টাকা পেয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জালিয়াতির সন্দেহ হলে দ্রুত ব্যাংক ও পুলিশকে জানাতে হবে, কারণ অনেক সময় ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ না জানালে গ্রাহককে অবহেলাজনিত ক্ষতির দায় নিতে হতে পারে।
