ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে চলতি বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও খারকিভে একজন এবং দোনেৎস্কে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই সিরিজ হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, আবাসিক ভবন, রেলস্টেশন এবং গুদামে আঘাতের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিয়েভ নগরীতে একজন এবং বৃহত্তর অঞ্চলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন; এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। খারকিভের আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানিয়েছেন, সেখানে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দোনেৎস্কের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানান, সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়ার এই হামলায় ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি মাসে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর সক্ষমতা ২২ শতাংশ কমেছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে বিলম্বের কারণেই এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মিত্রদের কাছ থেকে ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও এর আশেপাশের এলাকায় ইউক্রেনের সামরিক লজিস্টিক হাব এবং সরবরাহ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন অস্ত্রের মজুদ ও ড্রোন তৈরির কাজ চলছিল। এছাড়া ওদেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র বহনকারী তিনটি কার্গো জাহাজ ধ্বংসের দাবিও করেছে মস্কো।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেন পাল্টা হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার তুলা অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লেগেছে এবং একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন জানিয়েছেন, জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ইউরো ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

