ইউক্রেন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং ২০০৪ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ী আন্দ্রি শেভচেঙ্কো তার সাবেক মিলান সতীর্থ আন্দ্রেয়া পিরলোর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইতালির জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পিরলোর নাম জোরালোভাবে শোনা গেলেও, রাশিয়ান জুয়া কোম্পানি 'ফনবেট'-এর সাথে তার বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্পোর্টমিডিয়াসেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেভচেঙ্কো কেবল পিরলোই নয়, বরং ফ্রান্সেসকো টট্টি এবং মার্কো মাতেরাজ্জির মতো ইতালীয় কিংবদন্তিদেরও সমালোচনা করেছেন, যারা অতীতে বিভিন্ন রাশিয়ান কোম্পানির সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে জড়িয়েছেন। শেভচেঙ্কো জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি এসব খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে নিজের এবং ইউক্রেনের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
সাবেক এই ইউক্রেনীয় স্ট্রাইকার বলেন, তিনি তাদের কাজের নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি তারা বুঝতে পারলেও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অটল ছিলেন। শেভচেঙ্কো আরও বলেন যে, এই ঘটনাটি এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি জানান, তার হতাশার কথা খেলোয়াড়দের জানানো হয়েছে এবং এখন সবকিছুই থমকে আছে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই পরিস্থিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করেছে।
পিরলোর জন্য এই হস্তক্ষেপটি একটি নাজুক সময়ে এসেছে। ইতালির কোচ হিসেবে তার নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও, ফনবেটের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। মস্কো-ভিত্তিক এই বুকমেকার কোম্পানির মালিকানা রাশিয়ান হওয়ায় এটি একটি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে, বিশেষ করে সম্প্রতি পিরলোর রাশিয়ায় কোম্পানির একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর দুই দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। ইউক্রেনীয় ফুটবলের শীর্ষ পদে থাকা শেভচেঙ্কো এই বিষয়ে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। সান সিরোর ড্রেসিংরুমে একসাথে সময় কাটানো দুই সতীর্থের মধ্যে এই মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও ব্যক্তিগত করে তুলেছে। ইতালির ফুটবল ফেডারেশন পিরলোকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, আর তার ওপর চাপ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

