প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৪২। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তিনি নিজে কখনোই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না। তবুও পেশাগত দায়িত্ব পালনের খাতিরে তাকে ‘জামায়াত’ হিসেবে চিহ্নিত ও ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাজুল ইসলাম দাবি করেন, মুখে প্রগতিশীলতার বুলি আওড়ালেও অনেকের অন্তরে ফ্যাসিজম প্রোথিত রয়েছে। এই সংকীর্ণ মানসিকতার কারণেই ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার মতো পরিবেশও অনেক সময় তৈরি হয় না। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনজীবীদের এক মতবিনিময়ে তিনি দেখেন সেখানে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা বসে আছেন। তিনি তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে খাওয়ার জন্য বসলে আওয়ামী লীগের আরও দুজন আইনজীবী সেখানে আসেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, টেবিলে থাকা ব্যক্তিরা নতুন আসা আওয়ামী লীগ আইনজীবীদের আমন্ত্রণ জানালেও, তাদের মধ্যে একজন ইশারায় তাজুল ইসলামকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওই যে উনি আছেন… উনি থাকলে তো এখানে বসা যাবে না, জামায়াত!’ অথচ তিনি শুধুমাত্র পেশাগতভাবে জামায়াতের আইনজীবীদের দলে থাকার কারণে এমন ট্যাগিংয়ের শিকার হন।
রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভিন্নমতের বা অন্য দলের মানুষের সাথে বসে খাবার না খাওয়ার মতো মনোভাব মূলত মনের গভীরে থাকা ফ্যাসিজমেরই বহিঃপ্রকাশ। রাজনীতি ও সমাজের এই গুণগত পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দেয়াল ও এই ট্যাবু থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সুশীল সমাজকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

