রাশিয়ার কাছ থেকে তেলজাত পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপ মার্কিন আইন লঙ্ঘন করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হওয়া রুশ তেল আমদানির ওপর সর্বসম্মত নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও ১০ লাখ টন এবং রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন ডিজেল পাঠাবে মস্কো। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর মার্কিন কংগ্রেসে রুশ তেল আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে। তা সত্ত্বেও মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হচ্ছে।
'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আইন ভাঙছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর ক্যারোলিনার সিনেটর থম টিলিস বলেন, "আমার মনে হয় তিনি আইন অমান্য করে থাকতে পারেন।" তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, মূল বাজেটের বাইরে সামরিক অভিযান ও বছরের শেষ অর্থায়নের জন্য যদি প্রেসিডেন্ট তার সমর্থন চান, তবে ট্রাম্পকে বুঝতে হবে এটি একটি গুরুতর সমস্যা। তিনি যোগ করেন যে, এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি একাই নন, আরও অনেক রিপাবলিকান নেতাই চিন্তিত।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বে দেশজুড়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে মিডওয়েস্ট অঞ্চলের কৃষক এবং আলাস্কার মতো প্রত্যন্ত রাজ্যগুলো, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঘর গরম রাখার কাজে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়, চরম সংকটে পড়েছে। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলাস্কা, আইওওয়া, ক্যানসাস ও নেব্রাস্কার মতো রিপাবলিকান দুর্গগুলো আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গায় পরিণত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষক ব্যাবিন উল্লেখ করেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিচারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বেশ দেরিতে নেওয়া উদ্যোগ হতে পারে, কারণ সবচেয়ে কম পরিমাণ ডিজেল প্রথমে পৌঁছাবে যখন বাজারে স্বস্তির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্লেষক জনস্টন জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে রাশিয়া সাধারণত এর ১০ গুণ বেশি জ্বালানি রপ্তানি করত।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুজনকেই সমানভাবে দায়ী করে আসছেন। কিন্তু টিলিস এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "আমরা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিলাম যে রাশিয়া এই যুদ্ধে আক্রমণকারী দেশ। দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে গিয়ে রাশিয়া নিজেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারে।" এদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী উত্তেজনা কমানোর চুক্তি ছাড়া কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা সুস্পষ্ট দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এটি সরাসরি রাশিয়ার হাতকে শক্তিশালী করবে, তাদের আরও বেশি মানুষ হত্যা করার এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার সুযোগ দেবে, যার ফলে পুরো বিশ্বে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।

