প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার খনিজ শিল্পে উৎপাদন বাড়ানোর অংশ হিসেবে মাইনিং সংক্রান্ত শিক্ষা ও ট্রেড প্রোগ্রামগুলোতে ১৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। এছাড়া কলোরাডো স্কুল অফ মাইনসসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুদান কর্মসূচির আওতায় জ্বালানি বিভাগ ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যার লক্ষ্য আগামী দুই বছরের মধ্যে খনিজ ও মাইনিং খাতে ডিগ্রিধারী কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি কলেজ, ট্রেড স্কুল এবং শিল্প সংস্থাগুলো এই কর্মসূচির অধীনে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।
এর পাশাপাশি সামরিক বাহিনী তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে কলোরাডো স্কুল অফ মাইনসকে প্রযুক্তি উন্নয়ন হাব তৈরির জন্য ৩২.৭ মিলিয়ন ডলার, সাউথ ডাকোটা স্কুল অফ মাইনসকে জনবল উন্নয়নের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়কে রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য ২৩.৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে। কলোরাডো স্কুল অফ মাইনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হাবটি খনিজ প্রক্রিয়াকরণ, পরিশোধন এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে তা অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনে যুক্ত করতে সহায়তা করবে।
ট্রাম্প জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ওঠা। 'সোসাইটি ফর মাইনিং, মেটালার্জি অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন' ও 'সোসাইটি অফ মাইনিং প্রফেসরদের' তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশজুড়ে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ৬০০ জনেরও কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, যা আট বছর আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকেরও কম। ট্রাম্প বলেন, এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির জন্য অপরিহার্য মাইনিং স্কুলগুলো বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে খনিজ উত্তোলনকারী কোম্পানি, ব্যাটারি প্রস্তুতকারক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর আগে জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কয়লা রপ্তানি টার্মিনালের জন্য ৭০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ঘোষণা করেছিল। খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, উন্নত অস্ত্র থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত সব কিছু তৈরির কাঁচামাল হলো এই খনিজ সম্পদ। আমরা চাই এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো খনি থেকে উত্তোলন, পরিশোধন এবং উৎপাদন যেন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই হয়।

