জার্মানির রাজধানী বার্লিনের অদূরে গোসেন-নিউ জিটাউয়ের একটি স্কুলে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ব্রান্ডেনবার্গ রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক জার্মান যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো 'গণ গুলিবর্ষণের' ঘটনা নয়, তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিহতদের মধ্যে একজন ১৮ বছর বয়সী নারী শিক্ষার্থী এবং অপরজন ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষ। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তি পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া মাজ অনলাইন জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত ১৮ বছর বয়সী তরুণীর সাবেক প্রেমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই বেসরকারি ডোসিমাস স্কুলের শিক্ষার্থী কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ব্রান্ডেনবার্গ অঞ্চলের পার্লামেন্টের স্পিকার উলরিকে লিডটকে এই ঘটনাকে 'কাপুরুষোচিত ফেমিসাইড' বা নারী হত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'নারীর প্রতি প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনাটি আবারও আমাদের গভীরভাবে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এছাড়া যে নাগরিক নৈতিক সাহসিকতা দেখিয়ে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তার মৃত্যুতে আমি মর্মাহত।' ব্রান্ডেনবার্গের স্টেট প্রিমিয়ার ডিটমার ওডকে এই ঘটনাকে 'অকল্পনীয় সহিংসতার কাজ' বলে বর্ণনা করেছেন।
স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল কুঞ্জ জানিয়েছেন, শুক্রবারের সব ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। তবে স্কুল খোলা থাকবে যাতে শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে একে অপরের সাথে কথা বলে এবং ঘটনার মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। গত মাসে দক্ষিণ জার্মানির একটি মাধ্যমিক স্কুলে অন্য এক ঘটনায় দুই কিশোরী গুরুতর আহত হয়েছিল এবং ১৬ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

