বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় গোল করে আটালান্টাকে উয়েফা কনফারেন্স লিগে নিয়ে গেলেন জানলুকা স্কামাক্কা। তার একমাত্র গোলে হাপোয়েল তেল-আভিভকে দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিল ইতালিয়ান ক্লাবটি।
বেরগামোতে প্রথম লেগের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায়, হাঙ্গেরির মিসকোলকের ডিভিটিকে স্টেডিয়ামে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে জয় ভিন্ন পথ ছিল না আটালান্টার সামনে। ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে থমাস ক্রিস্টেনসেন, ইসাক হিয়েন এবং কামালদিন সুলেমানাকে পায়নি লা দেয়া। এছাড়া চার্লস ডি কেটেলারেও শুরুর একাদশে খেলার মতো পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। ইতালিয়ান সিরি এ-তে সাসুওলোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের মরশুম শুরু করা আটালান্টা এই ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া ছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আটালান্টার লাজার সামারডিচ ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। তার বাড়ানো ক্রস থেকে এদেরসনের ফ্লিক করা হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর দূর থেকে নেওয়া সামারডিচের একটি শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন হাপোয়েল গোলরক্ষক। প্রথমার্ধেই দারুণ এক ড্রিবলিংয়ের পর ফ্রি-কিক আদায় করে নিয়েছিলেন সামারডিচ, তবে তার নেওয়া শটটি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের অন্য প্রান্তে রাউল বেলালোভার পাস থেকে নিকোলা ক্রস্তোভিচ শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও ফার্নান্দ মায়েম্বো দারুণ এক ইন্টারসেপশন করে তা নস্যাৎ করে দেন। হাপোয়েলের রোই আলকুকিনের একটি শটও বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ওডিলন কোসোউনু এবং সেয়াদ কোলাসিনাক নিজেদের মধ্যে ধাক্কা খেলে সুযোগ হাতছাড়া হয় আটালান্টার। এরপর ডি-বক্সের ভেতর কোসোউনু ধাক্কা দিলে পেনাল্টির আবেদন করেন আলকুকিন, তবে রেফারি তাকে কাঁধে কাঁধের লড়াই বলে নাকচ করে দেন। ইমানুয়েল বোয়াটেংয়ের হেড চমৎকারভাবে তালুবন্দী করেন আটালান্টা গোলরক্ষক মার্কো কার্নেসেক্কি। নিকোলা জালেভস্কির পাস থেকে ক্রস্তোভিচের শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে মাঠের বাইরে চলে যায় এবং মারিও পাসালিচের একটি হেড সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে।
অবশেষে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন বদলি খেলোয়াড় স্কামাক্কা। মাঠে নামার পর মাত্র দ্বিতীয় স্পর্শেই গোল পান এই ফরোয়ার্ড। একটি কর্নার ক্লিয়ার হওয়ার পর লরেঞ্জো বেরনাসকোনির নেওয়া শটটি ভুলবশত অ্যাসিস্টে রূপ নেয়, যা থেকে মাত্র আট গজ দূর থেকে বল জালে জড়ান স্কামাক্কা।
গোল খেয়ে মরিয়া হয়ে লড়ে হাপোয়েল। ১২ গজ দূর থেকে আলকুকিনের জোরালো শট রুখে দেওয়ার পর, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মর বুসকিলার কোণাকুণি শট আঙুলের ডগা দিয়ে ছুঁয়ে পোস্টের গায়ে লাগিয়ে আটালান্টাকে রক্ষা করেন কার্নেসেক্কি। এই জয়ের মাধ্যমে গত আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিল আটালান্টা।
হাপোয়েল তেল-আভিভ দল: তজুর; কোকো, মায়েম্বো, চিকো, লেইডনার; ফালকাও (ফারবার ৮১), ক্রায়েভ (কানসেপোলস্কি ৭৭); ওউসু (তোরিয়েল ৬৮), অল্টম্যান (বুসকিলা ৭৭), আলকুকিন; বোয়াটেং (ডাপ্পা ৮১)।
আটালান্টা দল: কার্নেসেক্কি; বেলালোভা, কোসোউনু, স্কালভিনি, কোলাসিনাক (বেরনাসকোনি ৭১); এদেরসন, গায়েতানো, সামারডিচ (পাসালিচ ৬০); জালেভস্কি (কাসা ৮৪), ক্রস্তোভিচ (স্কামাক্কা ৭১), রাসপাডোরি (ডি কেটেলারে ৬০)।

