ইউক্রেন ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ বছর সবচেয়ে কঠিন শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দেশটিতে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের তৃতীয় সর্বোচ্চ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ডি ক্রু ইউক্রেন সফরকালে রাশিয়ার এই কৌশলী হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, শীত আসার আগেই বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক মেরামতের জন্য এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ চলছে। ইউক্রেনে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হিটিং ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কাজ না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ইউক্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কাজ করছে। তারা এমন সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করছে যা আগের তুলনায় অধিক টেকসই এবং হামলার ঝুঁকি কম। তবে ডি ক্রু জানান, এই কাজ অত্যন্ত কঠিন এবং বিপজ্জনক। কারণ, প্রতিনিয়ত বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের মধ্যেই প্রকৌশলীদের মেরামত কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় হামলার ঝুঁকির কারণে দিনের বড় একটি অংশ কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই আকাশপথে আক্রমণ জোরদার করেছে। রাশিয়া নতুন ধরনের দ্রুতগতির জেট-চালিত ড্রোন ব্যবহার করছে, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি ও ব্যবসায়িক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় দেশই বেসামরিক অবকাঠামোয় ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতরা মস্কো ও কিয়েভে আলোচনা চালিয়েছেন। এর মধ্যেই ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার পক্ষ থেকে সোচি শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার দাবি করা হয়েছে, যেখানে ২৮ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। সব মিলিয়ে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং আসন্ন শীতকাল দেশটির জন্য বড় ধরনের মানবিক চ্যালেঞ্জ বয়ে আনছে বলে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

