যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে অত্যন্ত কঠোর একটি বোমা হামলার পরিকল্পনা করছে। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তেই এই অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন বাজারের ওপর এই হামলার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে সোমবার বাজার খোলার আগেই অভিযান শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চললেও, এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
মার্কিন সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। এই যৌথ অভিযান শুরু হলে তা ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে, কারণ মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর দেশটি সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছিল। জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ইরান ইসরায়েলে কোনো হামলা চালায়নি।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইসরায়েল অবগত নয় এবং তাদের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়নি। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলোর মতে, হোয়াইট হাউসের কয়েকজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করবেন। কূটনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা কেবল জয়লাভ করতে চান। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শোধনাগারের মতো জ্বালানি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পেন্টাগন কোনো লক্ষ্যবস্তু নিয়ে মন্তব্য করবে না। তিনি বলেন, পেন্টাগন প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই তা কার্যকর করবে। একজন প্রাক্তন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করার মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করা।
এর আগে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে যুদ্ধের তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যার মধ্যে স্থলপথে সরবরাহ রুট লক্ষ্য করে সামরিক হামলার বিষয়টিও ছিল। এছাড়া শুক্রবার তেহরানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজে হামলার প্রতিদান হিসেবে তিনি ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করবেন।

