যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য জাপানে একটি কারখানা স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবার রাতে সেবুর একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষাপ্রধানদের বার্ষিক সভার ফাঁকে মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই তথ্য জানান।
কোইজুমি জানান, "অপারেশন সুপারচার্জ" নামক এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে তিনি এই চুক্তির বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন নির্মিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তির বিমান, যা জাপানের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করে থাকে।
সেবুতে পিট হেগসেথের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে কোইজুমি আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা ক্রমবর্ধমান গুরুতর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভাগ করে নিয়েছি এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি গতি ও তীব্রতায় জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের প্রতিরোধ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়েছি।"
কোইজুমি আরও বলেন, তারা আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা বলপ্রয়োগ বা অন্য কোনো উপায়ে একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে। তবে তিনি সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তাদের এই আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়।
এদিকে, পিট হেগসেথ ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষাসচিব গিলবার্তো টিওডোরো জুনিয়রের নেতৃত্বে আসা আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে এই অঞ্চলে আগ্রাসন রোধে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হেগসেথ বলেন, তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী, শান্ত এবং স্পষ্ট। তিনি জানান, তাদের এই অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী যাতে তা জবরদস্তি ও আগ্রাসনকে প্রতিহত করতে পারে এবং যথেষ্ট শান্ত যাতে অপ্রয়োজনীয় উত্তজনা পরিহার করা যায়।
ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্র ফিলিপাইনকে হেগসেথ আশ্বস্ত করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। চীন এই ব্যস্ত জলপথটিকে কার্যত তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে। এছাড়া পূর্ব চীন সাগরে জাপানের নিয়ন্ত্রণাধীন ছোট দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বেইজিং ও টোকিও’র মধ্যে আলাদা বিরোধ রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

