ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক মজুদে থাকা দূরপাল্লার প্রিসিশন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটা ব্যবহার করে ফেলেছে। এ বিষয়ে সরাসরি অবগত দুটি সূত্র সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত তাদের আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল প্রায় নিঃশেষ করে ফেলেছে। অপারেশন এপিক ফিউরির অংশ হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে রয়টার্স প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এর আগেও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে, যা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য একটি বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে যেভাবে প্রিসিশন মিউনিশন বা নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই গতি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এখন আর সম্ভব নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ATACMS এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মজুদ সীমিত। তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো প্যাট্রিয়ট এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনের গতির চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ব্যবহার করা হচ্ছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) জুলাই মাসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২,৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ছিল, যা জুলাইয়ের শেষে নেমে এসেছে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে। একই সময়ে THAAD ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা ৪৫২টি থেকে কমে ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। সিএসআইএস-এর অপর একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মজুদ যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে অন্তত ২০২৯ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের প্রয়োজনে যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন কমব্যাট কমান্ডের মাধ্যমে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছি এবং আমাদের সামরিক বাহিনীর হাতে এখনো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গভীর অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।
এর আগে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জুন 'ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান' অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, এটি মিডিয়ার তৈরি করা একটি গল্প এবং আমাদের মজুদের অবস্থা বেশ ভালো, বরং দিন দিন তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শর্ত পূরণ না হলে বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। সোমবার ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট বলেন, চূড়ান্ত আঘাত হানার আগে আমি তাদের শেষ সুযোগ দিতে চাই।

