যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা প্রত্যাহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কথা মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত ব্রাজিলের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে সফর করতে ইচ্ছুক দুই মার্কিন কূটনীতিককে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ব্রাজিল। এছাড়া ব্রাসিলিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত নতুন রাষ্ট্রদূতকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্রাজিল দীর্ঘ সময় ধরে গড়িমসি করছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে এই পরিস্থিতি থেকে সরে আসার সুযোগ দিতেই এই পদক্ষেপটি কয়েকবার বিলম্বিত করা হয়েছিল। তবে লুলা সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ব্রাজিল যদি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয় এবং ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণ করে, তবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই প্রত্যাহার করা সম্ভব।
আগামী ৪ অক্টোবর ব্রাজিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বামপন্থী লুলা দা সিলভা সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মুখোমুখি হবেন। উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা এর আগে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ব্রাজিলের জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই বেছে নিক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে সম্মান করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই যেখানে আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক, উৎপাদনশীল ও স্বচ্ছ সম্পর্ক বজায় থাকে।

