গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসসহ ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলারের বেশি রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে একটি প্রভাবশালী পরিবার। তবে সম্প্রতি এই পরিবারের সাথে চীনের সন্দেহভাজন গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফ্যাং এবং চীনা সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসায় মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইয়িন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি চালিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয় এবং পরবর্তীতে তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। সম্প্রতি এফবিআই-এর প্রকাশ করা নথিতে এই পরিবারের প্রধান চেই চেন ইয়িন (যিনি সি.সি. ইয়িন নামে পরিচিত) এবং তার ভাই হেনরি ইয়িনের সাথে চীনের সন্দেহভাজন গুপ্তচর ফ্যাং ফ্যাং (ক্রিস্টিন ফ্যাং নামেও পরিচিত) এবং চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারকারী শাখা 'ইউনাইটেড ফ্রন্ট'-এর যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সি.সি. ইয়িন এবং হেনরি ইয়িন মিলে 'এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স' (APAPA) নামের একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য ছিল তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও রাজনীতিতে যুক্ত করা। তবে আগস্টে অবমুক্ত করা এফবিআই নথি অনুযায়ী, সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফ্যাংয়ের সাথে সি.সি. ইয়িনের ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল এফবিআই-কে জানান, ফ্যাং ছিলেন APAPA-তে তার যোগাযোগের প্রধান ব্যক্তি। উল্লেখ্য, সোয়ালওয়েলের সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা ফ্যাং ২০১৫ সালে মার্কিন তদন্তের মুখে চীনে পালিয়ে যান।
ইয়িন পরিবারের রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ বিশাল। রাজ্য ও ফেডারেল রেকর্ড অনুযায়ী, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ ডলার এবং ফেডারেল প্রচারণায় ১৪,৫৫,০২৭ ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্যে গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের বিগত নির্বাচনী প্রচারণায় ৩,৬৪,৮১৭ ডলার, ২০১৯ সালের অভিষেক কমিটিতে ৮০,০০০ ডলার এবং নিউসমের নির্দেশে একটি অলাভজনক সংস্থায় ৫০,০০০ ডলার দেওয়া হয়। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর এলেনি কুনালাকিসকে ২,২১,৭০০ ডলার এবং কামালা হ্যারিসের প্রচারণায় ২,১৪,৩০০ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।
হেনরি ইয়িনের সাথে চীনা সরকারের 'ইউনাইটেড ফ্রন্ট'-এর সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে তিনি চীনে সরকারি কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে অন্তত ১০টি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে গভর্নর নিউসমের চীন সফরের সময় হেনরি ইয়িন তার উপদেষ্টা হিসেবে সফরসঙ্গী ছিলেন। নিউসমের এই সফর আয়োজনের পেছনে সি.সি. ইয়িনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।
হেনরি ইয়িন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্নারও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন বলে তার লিংকডইন প্রোফাইলে উল্লেখ ছিল, যা সম্প্রতি মুছে ফেলা হয়েছে। রো খান্নার মুখপাত্র অবশ্য দাবি করেছেন, হেনরি ইয়িন কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না, তবে তিনি এক বছর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।
এই পুরো বিষয়ে সি.সি. ইয়িন সিবিএস নিউজকে বলেন, "আমি আমেরিকাকে ভালোবাসি এবং মার্কিন রাজনীতিতে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই।" তবে তার ভাই হেনরি ইয়িন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়িন পরিবারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো রাষ্ট্রদ্রোহ বা গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ নেই, তবে রাজনৈতিক অনুদানের মাধ্যমে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করার যে চীনা কৌশল, এটি তারই অংশ হতে পারে।

