জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ফেরি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা হ্রদ থেকে আরও ২২টি মরদেহ উদ্ধার করার পর নিহতের এই নতুন সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন শিশু রয়েছে।
গত মঙ্গলবার শক্তিশালী ঢেউয়ের কবলে পড়ে জিম্বাবুয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই জরাজীর্ণ ফেরিটি উল্টে যায়। কারিবা শহর থেকে গ্রামীণ ও মৎস্যজীবী অঞ্চলের দিকে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং গণপরিবহনের তীব্র সংকট থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াতের জন্য জলপথের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন যাত্রী ফেরিটিতে ছিলেন বা এখনও কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটির সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় এতে অন্তত ১৫৩ জন আরোহী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নিহত শিশুদের নিয়ে পুলিশ পরবর্তীতে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে টিকিট ছাড়া ভ্রমণকারী শিশুদের হিসাব যাত্রী তালিকায় না থাকায় তাদের সঠিক সংখ্যা জানা ছিল না। নতুন তালিকা অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ১৬ জনের বয়সই ১০ বছর বা তার কম, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র এক বছর।
কারিবা হ্রদটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগে এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে প্রমত্তা জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই হ্রদটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি দৈর্ঘ্যে ২০০ কিলোমিটারের (১২৪ মাইল) বেশি এবং কোনো কোনো স্থানে এর প্রস্থ প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল)।

