
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং পড়াশোনা শেষে চমৎকার ক্যারিয়ার গড়ার সুবিধার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেবেন, স্কলারশিপ কীভাবে পাবেন কিংবা ভর্তি প্রক্রিয়া কতটা জটিল এমন নানা প্রশ্নে মাঝপথেই থমকে যান অনেকে।
শিক্ষার্থীদের এই দ্বিধা কাটাতে এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে দেশজুড়ে তিন শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘অস্ট্রেলিয়ান হায়ার এডুকেশন রোডশো ২০২৬’। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এডটেক প্রতিষ্ঠান ‘স্টাডিনেট’-এর আয়োজনে ঢাকায় শুরু হয়ে এই রোডশো বা এডুকেশন ফেয়ার পর্যায়ক্রমে পৌঁছাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটে।
এক ছাদের নিচে ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়
এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এতে অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃত ৩০টিরও বেশি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। এমনকি দেশটির বিশ্বখ্যাত ‘গ্রুপ অব এইট’ (Go8) ভুক্ত কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ও এতে অংশ নেবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী কোনো এজেন্টের মুখোমুখি না হয়ে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
যেখানে এবং যখন বসবে মেলা
শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য দেশের তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষা হাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ভেন্যুতে কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত:
- ঢাকা: ৩১ জুলাই, শেরাটন হোটেল
- চট্টগ্রাম: ১০ আগস্ট, দ্য পেনিনসুলা হোটেল
- সিলেট: ১৫ আগস্ট, স্টাডিনেট কার্যালয়
থাকছে বিনামূল্যে যেসব সুযোগ-সুবিধা
সাধারণত বিদেশি সংস্থায় আবেদন বা কাউন্সেলিংয়ের জন্য বাড়তি খরচের চাপ থাকলেও এই এডুকেশন ফেয়ার থেকে শিক্ষার্থীরা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (বিনাসার্ভিস চার্জে) বেশ কিছু সুবিধা:
- ইনস্ট্যান্ট প্রোফাইল অ্যাসেসমেন্ট: নিজের সিভি ও একাডেমিক কাগজপত্র দেখিয়ে স্পটেই যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ।
- স্কলারশিপের তথ্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের সম্ভাবনা ও আবেদনের সঠিক নিয়ম জানা।
- ক্রেডিট ট্রান্সফার ও কোর্স পছন্দ: পূর্বে সম্পন্ন করা পড়াশোনার ভিত্তিতে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও সঠিক বিষয় নির্বাচনের ব্যক্তিগত পরামর্শ।
- ভর্তি ও টিউশন ফি: বর্তমান কোর্স ফ্রি, লিভিং কস্ট এবং পার্ট-টাইম কাজের আইনি সুবিধা সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য।
স্টাডিনেট জানায়, প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি তরুণ অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের সেবা নিয়ে থাকেন। গত বছরের আয়োজনেই দেশজুড়ে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণ করেছিলেন। এবারও অংশগ্রহণকারী ভর্তিচ্ছুদের জন্য এই ফেয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
