
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় (Ceuta) অভূতপূর্ব অভিবাসন সংকট তৈরি হয়েছে। মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেউতায় প্রবেশ করেছেন অন্তত ৫০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। উত্তাল সাগর সাঁতরে ও সীমান্ত বেড়া টপকে ঢোকার এই ভয়াবহ প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হঠাৎ এমন গণ-অনুপ্রবেশের ফলে স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় চরম সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।
রাস্তায় হাজারো মানুষের ভিড়, আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেই
আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থান হলেও ভৌগোলিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেউতা দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত জীবনের খোঁজে থাকা অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবারের মধ্যে যে পরিমাণ মানুষ একসাথে ঢোকার চেষ্টা করেছেন, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মূলত তরুণদের বড় বড় দল তারাফাল (Tarajal) সীমান্ত বেড়া বাইপাস করে ও সাঁতরে সেউতায় প্রবেশ করছেন।
অভিবাসীদের চাপে শহরের পার্ক, পথঘাট ও সাধারণ রাস্তাগুলো লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত লোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস বিষয়টিকে ‘পৌর ও সামাজিক জরুরি মানবিক অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সীমান্তে সেনা মোতায়েন ও পুশব্যাক
পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার জন্য সামরিক বাহিনী নামানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এএফপি/ইএফই (EFE)। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ হাজার ৩০০ জন অভিবাসীকে মরক্কোতে ফেরত (পুশব্যাক) পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তার সরকার মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অন্যদিকে, স্পেনে নিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত করিমা বেনইয়াইচ এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সেউতার এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মরক্কোর কাম্য ছিল না। মরক্কো সরকার সবসময়ই সুশৃঙ্খল, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসনকে সমর্থন করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চরম বিপর্যয় ইউরোপ ও আফ্রিকার সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈশ্বিক অভিবাসন নীতিকে আবারও বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
