
বিশ্বজুড়ে তীব্র শ্রমসংকট এবং জনসংখ্যার অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের সামনে তৈরি হয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এতদিন কেবল ঐতিহ্যবাহী মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলোর ওপর প্রধানত নির্ভর করতে হলেও, এখন ইউরোপ থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে সহজ শর্তে কাজের সুযোগ ও ভিসা প্রক্রিয়া উদার করা হচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক দক্ষতা এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় পাড়ি দিতে পারলে দেশের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নিজেদের ভাগ্যের উন্নতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে আগের চেয়েও বড় অবদান রাখতে পারবেন।
যেসব খাতে ও দেশে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা
ইউরোপের পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চল: পোল্যান্ড, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি এবং মাল্টায় নির্মাণ খাত, ম্যানুফ্যাকচারিং, লজিস্টিকস এবং ডেলিভারি সেক্টরে রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা বেড়েছে।
জব সিকার ও টেকনিক্যাল ভিসা: জার্মানি ও পর্তুগালে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মীরা কোনো পূর্ব অফার লেটার ছাড়াই চাকরি খোঁজার বিশেষ ভিসা (Job Seeker Visa) নিয়ে যাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।
পূর্ব এশিয়ার বাজারে বিস্তার: জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারিভাবে ই-৯ ভিসার আওতায় কারিগরি ও মেকানিক্যাল খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্কিলড ক্যাটাগরি: প্রথাগত সাধারণ শ্রমিকের বাইরে এখন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কেন বাড়ছে এই চাহিদা?
১. উন্নত দেশের প্রবীণ জনসংখ্যা: ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
২. দক্ষতার কদর: বাংলাদেশ থেকে টেকনিক্যাল ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর বিদেশি কোম্পানিগুলোর আস্থা বাড়ছে।
৩. অনলাইন ভিসা প্রসেসিং: অধিকাংশ দেশ এখন ই-ভিসা ও সরাসরি নিয়োগকর্তার স্পন্সরশিপ প্রক্রিয়া সহজ করায় আগের মতো ভিসা জটিলতা অনেকটাই কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: বৈশ্বিক এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হলে কর্মীদের মৌলিক ভাষা শিক্ষা, পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের প্রতারণা এড়িয়ে সরাসরি সরকারি বা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির (যেমন: BOESL) মাধ্যমে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
