পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও কারাগারে মর্যাদাপূর্ণ আচরণের দাবিতে চলমান প্রচারণায় সংহতি প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথম কোনো বর্তমান আন্তর্জাতিক অধিনায়ক হিসেবে কামিন্স এই প্রচারণায় সরাসরি নিজের সমর্থন জানালেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কামিন্স লিখেছেন, "আমি আশা করি ইমরান খানের সঙ্গে এমন মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা হবে, যা যেকোনো মানুষেরই প্রাপ্য।" অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে কামিন্স আরও যোগ করেন, "গ্রেগ চ্যাপেল এবং অন্যান্য সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের এই উদ্যোগে আমি আমার সমর্থন জানাচ্ছি।" চ্যাপেল সেই ভিডিওতে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
কামিন্স তার পোস্টে আরও বলেন, "আমি আশা করি আদালত কর্তৃক নির্দেশিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাটি যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ অব্যাহত থাকে।" উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। সম্প্রতি তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার ছেলেরা তার উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তৎপরতা বাড়িয়েছেন।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে রাজধানী Islamabad-এর শাফা হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তাকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পিমস (PIMS) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দ্রুতই আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
এর আগে, গত সপ্তাহে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠান। চিঠিতে তারা কারাগারে ইমরানের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, তবে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে সেটির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ইমরান খানের এই ইস্যুটি ক্রিকেট অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরান খানের ছেলেদের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বৃহস্পতিবার সম্প্রচারকারী চ্যানেলটির বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে বিরতির পর পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না বলেও পিসিবি বিবেচনা করেছিল বলে জানা গেছে।
অবশ্য পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের ওপর অন্যায় আচরণ বা তার পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকার দাবি করেছে, ২০২৩ সালের আগস্টে কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইমরান খানের পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা ৯০০ বারেরও বেশি তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

