মার্কিন শেয়ার বাজারে পতন এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো নতুন সামরিক হামলা চালানো হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সময়ই ইরানে আক্রমণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস পেন্টাগনকে নির্বাচনের আগে ইরানে সীমিত আকারে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে বলে 'দ্য আটলান্টিক'-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল যে, নির্বাচনের পরে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমানে আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করবেন তা নিয়ে ভাবছেন এবং ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে কি না তা নিয়ে একটি "বড় সিদ্ধান্তের" মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তিনি বারবারই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পরপরই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। উল্লেখ্য, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে মার্কিন কংগ্রেসে কোন দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
গত ৮ অক্টোবরের পোস্টে ট্রাম্প জানান, বর্তমানে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। তবে তিনি ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে "খুবই খারাপ অবস্থায়" রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ সম্পূর্ণ বহাল থাকবে। তিনি দাবি করেন, গত রাতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে রেকর্ড ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রবাহিত হয়েছে, যার একটি ব্যারেলও ইরান থেকে আসেনি বা ইরানে যায়নি।
অবশ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত তেলের এই পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মার্কিন সরকার দাবি করছে যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে, তবে বাজার বিশ্লেষকরা এই দাবির সাথে একমত নন। মূলত সামরিক হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারে দরপতন ঘটার পরই ট্রাম্প এই অবস্থান নিলেন।
