ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় ৬.৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এতে কোনো সুনির্দিষ্ট সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল সারঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় এলাকায়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৬২ কিলোমিটার।
আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সারঙ্গানি দ্বীপে সরকারের আর্থিক ভাতা ও ভর্তুকি নেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা এক স্থানে জড়ো হয়েছিলেন।
সারঙ্গানি দ্বীপের উদ্ধারকারী দলনেতা হার্লি সাউরো আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিটি বেশ তীব্র ছিল। মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সবাই ছোটাছুটি ও চিৎকার করতে শুরু করেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু স্থানীয় প্রশাসন সরকারি সহায়তার অর্থ বিতরণ করছিল, তাই সেখানে বেশ লোকসমাগম ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সবাই নিরাপদে আছেন। আমাদের প্রাথমিক পর্যালোচনা ও অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে না।”
আগের ভূমিকম্পের রেশ
এই ভূমিকম্পটির ঠিক দু’মাস আগে গত ৮ জুন একই অঞ্চলের কাছে মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হেনেছিল এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প। কোতাবাতো ট্রেন্সের প্লেট সরে যাওয়ায় ঘটে যাওয়া ওই ভূমিকম্পে বাড়িঘর ধসে পড়া ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৭৬ জন প্রাণ হারান।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন প্যাসিফিক ‘রিং অব ফায়ার’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায় নিয়মিতই ছোট-বড় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির তৎপরতা দেখা যায়।
