বরিশালের উজিরপুরে চুরির অভিযোগে বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের সময় রুটি খাইয়ে আলোচনায় আসা ৯ বছর বয়সী শিশু তুবা অবশেষে তার প্রিয় শিক্ষালয়ে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা নিজে শিশুটির হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যান। দীর্ঘ বিরতির পর স্কুলে ফিরে তুবা তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তুবাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে মানবতা ও মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তুবার শিক্ষাজীবনে ফেরার এই মানবিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর, যখন বামরাইল বাজারে তুবার বাবা অনিক হাওলাদারকে চুরির অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। সেসময় ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বাবাকে মারধর না করার আকুতি জানায় তুবা। একপর্যায়ে সে চা ও রুটি এনে বাবাকে খাইয়ে দেয় এবং ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দেয়। এই হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইউএনও মো. আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অনিককে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন তুবার ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় তাকে আজ বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হলো।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, তুবার স্বপ্ন অনেক বড় এবং সেই স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে। তার পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তুবার স্কুলে ফেরার এই ঘটনা তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

