
ঢাকার সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) দশম শ্রেণির কারাতে বিভাগের ক্যাডেট ইয়াসীন আরাফাত জীম (১৪)-এর রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) মো. মাহফুজুল আলম খানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ক্রীড়া-১) মো. মিজানুর রহমান সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
সংরক্ষিত ক্যাম্পাসে মৃত্যুরহস্য
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাতে (আনুমানিক রাত ১১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে) অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসীন। তবে বিকেএসপির মতো একটি নিশ্ছিদ্র ও সংরক্ষিত সরকারি ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইয়াসীনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতি ইয়াসীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মেহেরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের ছেলে।
৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্টের নির্দেশ
অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর জট খুলতে নবগঠিত কমিটিকে বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
