আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সমন্বয়ে মালয়েশিয়ানদের জন্য প্রায় ১০ হাজার বিদেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিদেশে চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগও পাবেন।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা বিকাশ’ শীর্ষক ফোরামে অংশ নিয়ে এসব তথ্য জানান এসএনটি গ্রুপ (এম) এসডিএন. বিএইচডি.-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক দাতুক সেরি ড. আজিজুল রহিম সাঈদিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএনটি গ্রুপ মালয়েশিয়া এসডিএন. বিএইচডি.-এর উন্নয়ন পরিচালক এবং নেক্সজেন গ্লোবাল গ্রুপ (অস্ট্রেলিয়া)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেমি হোসেন, এসএনটি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা।
নিজের বক্তব্যে এসএনটির প্রধান ড. আজিজুল রহিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসএনটি গ্রুপের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এই কর্মসূচির সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়ানদের জন্য শুধু বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগই তৈরি হচ্ছে না, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ এবং বৈশ্বিক কর্ম-অভিজ্ঞতা অর্জনের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে।‘
তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং কর্মসংস্থান সংস্থার সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের একটি সুসংগঠিত পথ অনুসরণ করতে পারবেন।
নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে বিদেশে চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকলেও যাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত সনদ নেই, তাদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্ববর্তী শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (আরপিএল) পদ্ধতির মাধ্যমে তারা নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতায় রূপান্তর করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, ‘অন্তত তিন বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে আগ্রহীরা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা মূল্যায়নের মাধ্যমে ডিপ্লোমা পর্যায়ের সনদ অর্জনের সুযোগ পাবেন। আর পাঁচ থেকে দশ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পথ উন্মুক্ত হবে।‘
‘মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশটির কর্মশক্তিকে আরও দক্ষ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। আমাদের লক্ষ্য, আরও
বেশি মালয়েশিয়ান যেন আন্তর্জাতিক কর্ম-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিশ্বস্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক চাকরির বাজারে আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবেন এবং উন্নত ক্যারিয়ার ও উচ্চ আয়ের সুযোগ পাবেন।‘—যোগ করেন ড. আজিজুল রহিম।
মালয়েশিয়ানদের জন্য ১০ হাজার বিদেশি চাকরির সুযোগ
