ব্রাজিলে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দুই পরিচিত নামের প্রার্থীর লড়াই ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে লড়ছেন মোট ১১ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলেন ডানপন্থী নেতা ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। চার বছর আগের নির্বাচনে লুলা অল্পের জন্য ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর বাবা জাইর বলসোনারোকে পরাজিত করেছিলেন। তবে সেই নির্বাচনের পরবর্তী অস্থিরতা ও কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনার জের ধরে জাইর বলসোনারো বর্তমানে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন এবং তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো একটি ভিডিও প্রদর্শনী করেন, যেখানে এআই-জেনারেটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি জাইর বলসোনারোর অবতার তার ছেলের প্রার্থিতাকে সমর্থন জানায়। যদিও জাইর বলসোনারোর আইনজীবীরা এই এআই ব্যবহারের অনুমতি অস্বীকার করেছেন, তবুও নির্বাচনী প্রচারণায় বাবার ছায়া স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বিসিসি ব্রাসিলের পোল ট্র্যাকার অনুযায়ী, লুলা ও ফ্ল্যাভিও বলসোনারো উভয়েই ৪০ শতাংশের কাছাকাছি সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছেন। ৪ অক্টোবর প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে ২৫ অক্টোবর রান-অফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৮০ বছর বয়সী লুলা এর আগে তিনবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শাসনামলে 'বলসা ফামিলিয়া' কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য তিনি প্রশংসিত হলেও, পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। যদিও ২০২১ সালে তার সাজা বাতিল হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অন্যদিকে, ৪৫ বছর বয়সী ফ্ল্যাভিও বলসোনারো একজন আইনজীবী ও বর্তমান সিনেটর। তিনি অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান, আগ্নেয়াস্ত্র আইনের শিথিলকরণ এবং কৃষি খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে দুর্নীতি ও জালিয়াতির একটি বড় ইস্যু সামনে এসেছে। ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারোর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফ্ল্যাভিও বলসোনারো তদন্তের মুখে পড়েছেন। একইসাথে, লুলার মিত্র ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের সাথেও ওই ব্যাংকারের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যদিও লুলা নিজেকে এসব বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। ব্রাজিলে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ভোট দিতে পারেন এবং ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের জন্য ভোটদান বাধ্যতামূলক। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৬ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

