
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও পড়াশোনা শেষে পেশাগত জীবন শুরু করতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদের ইঙ্গিত মিলছে। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১ লাখ মার্কিন ডলার ফি যুক্ত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
আইনপ্রণেতা ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত এই প্রস্তাবটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং নতুন স্নাতকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
চরম প্রভাবে পড়তে পারে নিয়োগ প্রক্রিয়া
বর্তমানে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাধারণত পড়াশোনা শেষ করে দেশটির এইচ-১বি (H-1B) বা কাজের ভিসায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তারা। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এত চড়া অঙ্কের ফি যুক্ত করা হলে বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগ দিতে অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠানই নিরুৎসাহিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বড় অংকের ফি চালুর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি বড় ধরনের প্রভাব দেখা যাবে:
১. নিয়োগদাতাদের অনাগ্রহ: অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা এড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক স্নাতকদের জায়গায় স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে পারে।
২. শিক্ষার্থীদের সুযোগ সংকোচন: পড়াশোনা শেষে চড়া বেতনের চাকরি পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আবেদন বা আগ্রহ অনেকটাই কমে যেতে পারে।
চূড়ান্ত আইন নয়, তবে প্রস্তুতির পরামর্শ
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিষয়টি এখনো শুধুই একটি আলোচনাধীন প্রস্তাব বা নীতিগত পরিকল্পনার অংশ—এটি এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত নীতি বা কার্যকর আইন হিসেবে পাশ হয়নি।
শিক্ষা পরামর্শক ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তাভাবনা করছেন, তাদের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত। বর্তমান নীতিমালার দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার পাশাপাশি ইউরোপ বা কানাডার মতো বিকল্প দেশগুলোতেও দ্বিতীয় পরিকল্পনা (Plan B) প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
