বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নে হাজারো শিক্ষার্থী যখন নির্ঘুম রাত কাটান, তখন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার এক তরুণ গড়েছেন অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড। একসঙ্গে বিশ্বের ১৭০টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অফার লেটার পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন ডেনিস মালিক নামে এই শিক্ষার্থী।
শুধু ভর্তি অনুমোদনই নয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে দেওয়া স্কলারশিপের মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এত বিপুল অফার ও অর্থ পাওয়ার পরও তার শেষ সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করেছে একক একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়ে বাকি ১৬৯টির সুযোগই তিনি সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
রেকর্ড গড়ার কৌতূহল থেকেই আবেদন
মূলত কৌতূহল এবং বিশ্বমঞ্চে একটি অনন্য রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়েই এই বিরল অভিযানের পরিকল্পনা করেন লুইজিয়ানার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী ডেনিস মালিক। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২০০টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এই বিশাল আবেদন প্রক্রিয়ায় তার পকেট থেকে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২০০টির মধ্যে ১৭০টি নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ই তাকে পড়াশোনা ও স্কলারশিপের জন্য
চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে।
কেন সব অফার ফিরিয়ে দেওয়া?
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক এতগুলো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা ডেনিসের মূল লক্ষ্য ছিল না। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল একসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অনুমোদন পাওয়ার একটি বিরল রেকর্ড তৈরি করা।
নিজের লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর ডেনিস কোনো লোভ না দেখিয়ে কেবল নিজের পছন্দের একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ ও ভর্তির অফার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বা ছেড়ে দেন, যাতে তার ছেড়ে দেওয়া আসনে অন্য সাধারণ ও অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পান।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেনিসের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সঠিক প্রস্তুতি, শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল, আকর্ষণীয় ব্যক্তিগত প্রবন্ধ (Personal Statement) এবং পরিকল্পিত কৌশল থাকলে বিশ্বজুড়ে সাফল্যের দুয়ার উন্মোচিত হওয়া সম্ভব।
