৯/১১ হামলার পর পেন্টাগনের ধুলোবালি ও বিষাক্ত বাতাসের সংস্পর্শে আসা সুজান লুকাসের জীবন আজও বিপর্যস্ত। ২৫ বছর আগে সেই ভয়াবহ দিনে পেন্টাগনের করিডোরে কালো ধোঁয়ায় ঢাকা মেঝেতে নিজের পায়ের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। সেই বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাশুল আজও গুনছেন এই অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর মেজর।
ঘটনার সময় সুজান লুকাস পেন্টাগনের ভেতরেই ছিলেন। সেই দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে একটি প্রচণ্ড শব্দ ও ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভূত হয়। তিনি জানালা দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছিলেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের নির্দেশে কর্মীরা আবার অফিসে ফিরে আসেন। যদিও ভবনটি তখনো পুরোপুরি নিরাপদ ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।
২০০৮ সালে অবসর নেওয়ার সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লুকাসের ফুসফুসের একটি জটিল রোগ 'ট্রাকিওম্যালাসিয়া' ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বয়সী রোগীদের মধ্যে এই রোগটি বিরল, তবে পেন্টাগনে কর্মরত আরও অনেকের মধ্যেই একই সমস্যা দেখা গেছে। বর্তমানে তিনি ফাইব্রোমিয়ালজিয়া এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো জটিলতায় ভুগছেন, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
রিজার্ভ অর্গানাইজেশন অফ আমেরিকা (ROA) জানিয়েছে, পেন্টাগনের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের সময় বাতাসে মিশে থাকা সিলিকা ও বিষাক্ত কণা কর্মীদের ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করেছে। অথচ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের মতো সুবিধা পেন্টাগন কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। সুজান লুকাসের নামানুসারে প্রস্তাবিত 'সুজান ই. লুকাস ৯/১১ সার্ভিসমেম্বার ফেয়ারনেস অ্যাক্ট' এখন মার্কিন কংগ্রেসের বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্সের স্বাস্থ্যসেবা ও সুবিধার দাবি জানায়।
তবে মার্কিন ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স (VA) এই বিলের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এর আওতায় থাকা স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো খুব ব্যাপক এবং এর সাথে হামলার কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণের জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। সুজান লুকাস বলছেন, তিনি প্রতি মুহূর্তে ব্যথার সাথে লড়াই করছেন, কিন্তু তার লড়াই শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পেন্টাগনের সেই বিষাক্ত বাতাসে আক্রান্ত আরও ৩,০০০ কর্মীর জন্য। তিনি আজও প্রতিজ্ঞা করেন যে, এই লড়াই চালিয়ে যাবেন যাতে কেউ যেন তার মতো অবহেলিত না হয়।
