অ্যাটলান্টার একটি নার্সিং হোমের ১৩০ নম্বর কক্ষে দীর্ঘ ১০ বছর কাটাতে হয়েছে ৩৮ বছর বয়সী নিক পাপাদোপোলোসকে। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এই ব্যক্তি হাসপাতালে সাধারণ একটি ক্ষত নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর আর কখনোই নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। তাকে জর্জিয়ার প্রতিবন্ধী সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৬ হাজার মানুষের তালিকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তিনি হারিয়েছেন তার চাকরি, বাড়ি এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা।
গত ৩১ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে যা প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য কমিউনিটি বা বাড়িতে সেবা পাওয়ার পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিষ্ঠানে বা নার্সিং হোমে পাঠানোর পথ সহজ করে দেবে। রিপাবলিকান-শাসিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে, সরকারি আইনজীবীরা ফেডারেল বিচারককে জানিয়েছেন যে তারা ৫০ বছরের পুরনো একটি নিয়ম বাতিল করতে ইচ্ছুক, যা ফেডারেল তহবিলকে বাড়িতে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারের এই ছাড় আমেরিকান উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস অ্যাক্টের অধীনে অর্জিত নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ সাতটি জাতীয় সংগঠনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি আইনত ভুল এবং ৫০ বছরের আইনি অগ্রগতির পরিপন্থী।
এই সংকটের মূলে রয়েছে অলমস্টেড বনাম এল.সি. এবং ই.ডব্লিউ. মামলা, যেখানে ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, রাজ্যগুলো কেবল খরচ বাঁচানোর জন্য কাউকে প্রতিষ্ঠানে বন্দি রাখতে পারবে না। লুইস কার্টিস নামক এক নারীর আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই জয় অর্জিত হয়েছিল। ফেডারেল গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়িতে সেবা প্রদানের গড় খরচ প্রাতিষ্ঠানিক সেবার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ।
পাপাদোপোলোস তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, নার্সিং হোমে তার পরিচয় মুছে তাকে কেবল একজন 'রোগী' হিসেবে গণ্য করা হতো। সেখানে তিনি তার বাবা-মায়ের শেষকৃত্যসহ জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত মিস করেছেন। এমনকি সেখানে তাকে বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে, দীর্ঘ এক দশক পর তিনি অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ পান।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ছয় লক্ষাধিক মানুষ মেডিকেইড হোম সেবার অপেক্ষায় রয়েছেন। জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সম্প্রতি গৃহসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ভেটো দিয়েছেন। পাপাদোপোলোস এখন তার মতো অন্যদের এই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই এবং জনসচেতনতা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের এই নতুন অবস্থানকে তিনি সরাসরি নিজের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

