ভারতের হয়ে ইতিমধ্যে ৬৪টি সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলা ২৩ বছর বয়সী তিলক বর্মা এখন টেস্ট দলে জায়গা করে নিতে মরিয়া। লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিলক বলেন, টেস্ট ক্রিকেটই তার আসল খেলা বা 'এ গেম'।
চলতি দুলীপ ট্রফিতে সাউথ জোনের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিলক বর্মা। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১১৬, ৫১ ও ৯৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ২৬৬ রান নিয়ে তিনি এখন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার সামনে আছেন কেবল ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষাণ, যিনি করেছেন ৪০৯ রান।
চেন্নাইয়ে দুলীপ ট্রফির ফাইনালে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে তিলক বলেন, "ভারতের হয়ে লাল বলের ক্রিকেট খেলা আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, কারণ আমি এই ফরম্যাটটি খুব ভালোবাসি। ছোটবেলায় আমি ভাবতাম, প্রথমে টেস্ট ক্রিকেট খেলব এবং তার পরেই কেবল সাদা বলের ক্রিকেটে যাব। আমি লাল বলের ক্রিকেট খেলতে সত্যিই আগ্রহী, দেখা যাক কী হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুটা লাল বল দিয়েই হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাদা বলের ম্যাচ বেশি খেললেও টেস্ট ক্রিকেটই তার প্রিয় ফরম্যাট।
চেন্নাইয়ের চিপকের লাল মাটির উইকেটে চলমান ফাইনালে তিলক ২১১টি বল মোকাবেলা করেছেন। এর আগের ম্যাচে বেঙ্গালুরুতে নর্থ জোনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি খেলেছিলেন ২৫০টি বল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিলক তার ক্যারিয়ারে মাত্র দুইবার ২৫০ বা তার বেশি বল খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন—প্রথমটি ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে এবং দ্বিতীয়টি নর্থ জোনের বিপক্ষে এই ম্যাচে।
নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তিলক জানান, তিনি দলের প্রয়োজনের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। সেশন ধরে ধরে খেলে ম্যাচটি ড্র করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নিয়মিত উইকেট হারানোর কারণে ম্যাচটি ইস্ট জোনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। প্রথম ইনিংসে ইস্ট জোনের ৭০৮ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাবে সাউথ জোন ৩৩৬ রানে অলআউট হয়ে ৩৭২ রানে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইস্ট জোন ৫ উইকেটে ২১২ রান তুলে সামগ্রিকভাবে ৫৮৪ রানের লিড নিলে সাউথ জোনের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক তিলক সম্প্রতি ইন্ডিয়া 'এ' দল (শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ) এবং সাউথ জোনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখছি। মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের মানসিকতা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঙ্গে সময় কাটালে বোঝা যায় চাপের মুহূর্তে কার ওপর ভরসা করা যায়।" তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজের অধিনায়কত্বকে আরও সমৃদ্ধ করছেন বলে জানান তিনি।

