চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার সরকারের দেওয়া নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে যাত্রা করেন। ইরান ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি নির্ভরযোগ্য ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে মার্কিন গোয়েন্দারা। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত তাদের বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করে এবং বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই হুমকির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সফরের শুরুতে ট্রাম্প কাতার সরকারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছান। গত বছর উপহার হিসেবে পাওয়া এই বিমানটি প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করতে কয়েক মাস ধরে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সম্মেলন শেষে আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় ট্রাম্প পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে তিনি আবার নতুন বিমানে চড়েন।
এই আকস্মিক বিমান পরিবর্তনের ফলে নতুন বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানগুলোতে লেজার প্রযুক্তি রয়েছে, যা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে অন্ধ করে দিতে পারে এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। তবে কাতারের দেওয়া নতুন বিমানে এই ধরনের কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন বিমানটিকে আরও উন্নত করার কাজ চলার সময় ট্রাম্প পুরনো বিমানেই যাতায়াত করবেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানটি প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে আগামী শরতে এতে আরও কিছু আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন করা হবে, যা সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এই সময়কালে প্রেসিডেন্ট পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। ট্রাম্প নিজেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, নতুন বিমানটিতে ইতিমধ্যে অনেক সুবিধা রয়েছে, তবে আগামী এক মাসের মধ্যে এটিকে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন করা হবে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে তবে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরানকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা যেকোনো সময় তা করতে প্রস্তুত।

