মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দিনের আয়ারল্যান্ড সফর ঘিরে শুরু থেকেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল, তবে সফরের প্রথম দিনের শেষে তার একটি মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, যা এই দ্বীপ এবং গ্রেট ব্রিটেনে বেশ আলোড়ন তুলেছে। এটি কি মার্কিন প্রশাসনের নতুন কোনো পররাষ্ট্রনীতি, নাকি ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বিশেষ দূত মিক মুলভানি সতর্ক করেছেন যে, এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ‘গুড ফ্রাইডে এগ্রিমেন্ট’-এর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান ব্রেন্ডন বয়েলও এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তারা মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো তাত্ত্বিকভাবে সঠিক যে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড সম্ভব, কিন্তু তার মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য সক্রিয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করবে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য একবারের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। আয়ারল্যান্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের পর, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে দেওয়া ভাষণেও তিনি একই কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সম্ভবত বুঝতে পেরেছিলেন যে তার আগের মন্তব্যটি বেশ বিতর্কিত হয়েছে। তবে সেই ভাষণটি ছিল বেশ অদ্ভুত; ২০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দীর্ঘ সেই ভাষণে তিনি আয়ারল্যান্ড-সম্পর্কিত বিষয়ের চেয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েই বেশি কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের এই সফরের পেছনে আসল লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি কি ডাবলিনে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে কথা বলছিলেন, নাকি আটলান্টিকের ওপারে থাকা মার্কিন ভোটারদের লক্ষ্য করছিলেন? আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের দল বেশ চাপের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ আইরিশ বংশোদ্ভূত, যারা অনেক সময় রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের মধ্যে দোদুল্যমান ভোটার হিসেবে কাজ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৯৫ সালে শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইরিশ-আমেরিকানদের সমর্থন পেয়েছিলেন। ট্রাম্প হয়তো সেই ভোট ব্যাংককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তবে বর্তমানের মেরুকৃত মার্কিন রাজনীতিতে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা অবশ্য আশা করছেন, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যের চেয়ে গলফ কোর্সের খেলার বিষয়টিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

