দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের কেনা ৬৫টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম দুটি হাতে পেয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানের বিমান বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই দুটি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান তাইতুংয়ের চিহহাং বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ৬৫টি বিমানের অর্ডারের মধ্যে বাকি ৬৩টি বিমান পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে।
তাইওয়ান ২০১৯ সালে এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অর্ডার দিয়েছিল। দীর্ঘ এই বিলম্বের পেছনে মূলত উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন সংক্রান্ত নানা জটিলতা কাজ করেছে। বর্তমানে তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল, কারণ বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং প্রায় প্রতিদিনই সেখানে সামরিক বিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।
জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির তাইওয়ান সিকিউরিটি মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এই এফ-১৬ভি বিমানগুলোর মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের মোট ৩০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র অর্ডারের প্রায় ২৫ শতাংশ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ানের দীর্ঘ বকেয়া তালিকার প্রথম চালান।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অতিরিক্ত অস্ত্র প্যাকেজের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে মে মাসে বৈঠকের পর থেকে এই প্যাকেজটির অনুমোদন প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি অন্যতম প্রধান কারণ এবং চীন বারবার এই সরবরাহ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

