গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক হামলা, বিপুল প্রাণহানি ও চরম মানবিক সংকটের প্রতিবাদে ২০২৭ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। দেশ দুটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম যথাক্রমে আরটিই এবং এভিআরওট্রোস এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের জন্য এটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোভিশন বর্জনের ঘটনা। এর আগে ২০২৬ সালে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আসর থেকেও দেশটি সরে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'কান'-কে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলে আয়ারল্যান্ড প্রতিবাদস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেয়। আরটিই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা অব্যাহত প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের মুখে আয়ারল্যান্ডের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। উল্লেখ্য, ১৯৭০ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে সাতবার ইউরোভিশন জিতে সুইডেনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে আয়ারল্যান্ড।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের সম্প্রচারমাধ্যম এভিআরওট্রোস জানিয়েছে, কোনো অংশগ্রহণকারী দেশ বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে লিপ্ত থাকলে সেই প্রতিযোগিতাকে আর নিরপেক্ষ বিবেচনা করা যায় না। এর আগে ২০২৬ সালের আসরে ইসরাইলকে যুক্ত করার প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি স্পেন ও স্লোভেনিয়াও প্রতিযোগিতাটি বর্জন করেছিল।
বুলগেরিয়ার বুর্গাসে ২০২৭ সালের ইউরোভিশন প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ মে অ্যারেনা বুর্গাসে এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আগে ১১ ও ১৩ মে সেমি-ফাইনালগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আসরে 'বাঙ্গারাঙ্গা' গান গেয়ে দারা-র জয়ের মাধ্যমে বুলগেরিয়া প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের গৌরব অর্জন করে।
এদিকে ইসরাইল তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তা পরিচালিত হচ্ছে। তবে জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

