ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন থ্রেস টার্কস ইন ইউরোপ (এবিটিটিএফ) জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ওয়েস্টার্ন থ্রেসের তুর্কি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশনে এই লিখিত বিবৃতি জমা দেয় সংগঠনটি। এই অধিবেশনটি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলছে।
‘গ্রিসের ওয়েস্টার্ন থ্রেসে তুর্কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনে চলমান হস্তক্ষেপ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ শিরোনামের এই বিবৃতিতে এবিটিটিএফ উল্লেখ করেছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় মর্যাদা ও অধিকার ১৯১৩ সালের এথেন্স চুক্তি এবং ১৯২৩ সালের লোজান চুক্তির আওতায় সুরক্ষিত। এই চুক্তিগুলো অনুযায়ী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব মুফতি নির্বাচন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
ফেডারেশনের তথ্যমতে, ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেরাই তাদের মুফতি নির্বাচন করত। তবে ১৯৯১ সালের আইনি পরিবর্তনের পর থেকে গ্রিক রাষ্ট্র মুফতিদের নিয়োগ দেওয়া শুরু করে, যা ওই সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের সক্ষমতাকে কার্যত বন্ধ করে দেয়। ২০২২ সালে গৃহীত ৪৪৬৪ নম্বর আইন অনুযায়ী, মুফতি অফিসগুলোকে গ্রিসের শিক্ষা, ধর্মীয় বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে।
এবিটিটিএফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ডিডাইমোটিচো (দিমেতোকা) এলাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক একজন মুফতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া জানথি (ইসকেচে) এবং কোমোতিনি (গুমুলচিনে) অঞ্চলেও চলমান রয়েছে। সংগঠনের দাবি, গ্রিসে অন্যান্য স্বীকৃত ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের সুযোগ পেলেও ওয়েস্টার্ন থ্রেসের তুর্কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। গ্রিসে বর্তমানে সংখ্যালঘু ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক বোর্ড এবং মুফতিদের নিয়োগ দেয় রাষ্ট্র। স্থানীয় তুর্কি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই প্রথার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং তাদের দ্বারা নির্বাচিত মুফতিদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছে।

