এশিয়া কাপের ট্রফিগুলো শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অবস্থিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সদর দফতরেই এসে পৌঁছাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বোর্ডের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া।
সম্প্রতি দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি ও মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারতীয় নারী দল। মহসিন নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালে জয়ের পরও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, "এশিয়া কাপের ট্রফিগুলো… আমরা আশা করি কোনো একদিন চলে আসবে। আমি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেব না, তবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি যে উভয় ট্রফিই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিসিসিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এসে পৌঁছাবে।"
বর্তমানে নাকভির এসিসি সভাপতি পদের মেয়াদ শেষের দিকে রয়েছে। ২০২৭ সালের এপ্রিলে তার এই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে চলমান এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও এসিসির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানেও ভারত পুরুষ ও নারী দল স্বর্ণপদকের ম্যাচে পৌঁছালে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নারী এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে ট্রফি না নিলেও মাঠের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ভারতীয় দল নিজেদের মধ্যে সেরা ফিল্ডারের মেডেল প্রদানের আয়োজন করে। দলের ফিল্ডিং কোচ মুনিশ বালি এই মেডেল তুলে দেন। বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা ও দেবজিৎ সাইকিয়া ফাইনালে দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়া নন্দিনী শর্মার গলায় এই মেডেল পরিয়ে দেন। পরবর্তীতে দেবজিৎ সাইকিয়া পিটিআইকে জানান, নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়া ছিল বোর্ডের একটি "দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত"।
সাইকিয়া বলেন, "পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। দেশের মানুষের আবেগ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিসিসিআই মনে করেছে এভাবে ট্রফি গ্রহণ করা সমীচীন হবে না। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই প্রতিফলন, যা খেলোয়াড়, টুর্নামেন্ট বা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"
২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড় বা তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করা বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রায় এক বছর আগে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন পুরুষ দলও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত হয়নি। সে সময় দীর্ঘ বিলম্বের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেবল রানার্স-আপ দলকে মেডেল প্রদান করা হয়েছিল।

