সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী বাশার আল আসাদ শাসনামলে দায়িত্বরত পাঁচ জ্যেষ্ঠ বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ও কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে। সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে। জনবহুল এলাকায় বিমান হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাত্তুস উপকূলীয় প্রদেশে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রধান কর্নেল আব্দুল আল মোহাম্মদ আব্দুল আল জানিয়েছেন, বিশেষায়িত ইউনিটগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে বেশ কিছু নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করে এই গ্রেপ্তার নিশ্চিত করেছে। আটককৃতদের মধ্যে পাইলট, ফিল্ড কমান্ডার এবং সাবেক শাসনামলে অপারেশন রুমে কর্মরত কর্মকর্তারা রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে: মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ফজর আলি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পাইলট আব্দুল্লাহ আলি মুয়াল্লা, কর্নেল পাইলট নিদাল হোসেন সালেহ, কর্নেল মোহাম্মদ আলি সালিম এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাইলট তালিব আব্দুল করিম হাসান। তদন্ত ও সামরিক নথিপত্রে দেখা গেছে, তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ পদ ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিমান হামলা পরিকল্পনা, পরিচালনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
নিরাপত্তা প্রধানের তথ্যমতে, জনবহুল এলাকায় তীব্র হামলা চালানোর জন্য বিমান, বিমান ঘাঁটি এবং ফিল্ড কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। এর ফলে আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে এবং অনেকে বাধ্য হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর লাতাকিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডার আব্দুল আজিজ আল আহমাদ জানিয়েছিলেন যে, নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়জন পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার জনগণের ওপর অসংখ্য অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সামরিক পদ ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা এই হামলাগুলো চালিয়েছিলেন, যার ফলে বাড়িঘর ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ২০১১ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া বিপ্লবের পর থেকে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে আসছে। উল্লেখ্য, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে আসাদ শাসনের পতন ঘটে।

