ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহ্যবাহী জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস দুই বছরের জন্য বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ সেখানে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের সময় সমবেত হয়ে বিক্ষোভকারীরা এই আইকনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চারপাশ ঘিরে আংশিক মানবপ্রাচীর তৈরি করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত বোর্ড এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিন দিন পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ফেডারেল আদালতের এক বিচারক দ্বিতীয়বারের মতো রায় দেন যে, কেনেডি সেন্টার ভবনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা যাবে না। এই রায়কে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর বোর্ড এই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ভবনটির সংস্কার প্রয়োজন এবং কেবল তিনিই এর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারেন, যার কারণে তাঁর প্রশাসনের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।
'হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস' নামের একটি সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ক্রাউলি বলেন, "জেএফকে-র (জন এফ কেনেডি) স্মৃতিসৌধে হাত দেবেন না।" বিক্ষোভের সমন্বয়কারী ওয়াশিংটন ডিসির ড্র্যাগ শিল্পী তারা হুট জানান, আততায়ীর হাতে নিহত একজন প্রেসিডেন্টের এই স্মৃতিসৌধ রক্ষা করতে ৬,৪০০-এরও বেশি মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
ট্রাম্প-বিরোধী স্লোগান সম্বলিত পোশাক ও সাজে সজ্জিত বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে আন্দোলন শুরু করেন এবং শেষ করেন "আমেরিকা দ্য বিউটিফুল" গানের মাধ্যমে। ভবনের নামের ওপর ঢাকা থাকা একটি ত্রিপল সরিয়ে ফেলার দাবিতে তারা "টেক ইট ডাউন" (এটি নামিয়ে ফেলো) বলে স্লোগান দেন। মূলত ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার পর এই ত্রিপল দিয়ে কেনেডি সেন্টারের নাম ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন 'ওয়ান্ডার ওম্যান' খ্যাত অভিনেত্রী লিন্ডা কার্টার, ভার্জিনিয়ার মার্কিন প্রতিনিধি ডন বায়ার, ইলিনয়ের মার্কিন প্রতিনিধি জোনাথন জ্যাকসন এবং ডিস্ট্রিক্টের নন-ভোটিং কংগ্রেসনাল ডেলিগেট পদের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডিসি কাউন্সিলম্যান রবার্ট হোয়াইট। জোনাথন জ্যাকসন তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কেনেডি সেন্টার চিরকাল জনগণের ঘর হয়ে থাকবে। এটি মেলানিয়া এবং ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের বাড়ি নয়।"
এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালেই ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, এই সেন্টারটি বছরের পর বছর ধরে একটি "আবর্জনার স্তূপ" হয়ে আছে এবং লোকসান গুনছে। তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজে অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও তাঁর প্রশাসনের স্বীকৃতি দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, "কাজটি করতে আমার আপত্তি নেই, তবে আমি যদি তা করি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।" এ সময় তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট কেনেডির ভাগ্নে এবং বর্তমান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র।
বিক্ষোভকারীরা কেনেডি সেন্টারের চারপাশে একটি অবিচ্ছিন্ন মানবপ্রাচীর তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তবে কাঁটাতারের বেষ্টনী থাকায় তারা পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলতে পারেননি। পরে তারা ভবনের পূর্ব দিকের সম্মুখভাগ এবং দক্ষিণ দেয়াল বরাবর হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে প্রাচীর গড়ে তোলেন। মেরিল্যান্ডের প্রিন্স জর্জ কাউন্টির বাসিন্দা আমনিশে গেরিন বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার যেকোনো সুযোগেই তিনি অংশ নেন। তবে শিল্পের মতো পবিত্র একটি বিষয়ের সুরক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিসির আরেক বাসিন্দা ডেভিড ওয়াইস বলেন, ট্রাম্প একজন নিহত প্রেসিডেন্টের স্মৃতিসৌধে নিজের নাম বসাতে চান এবং এটিকে "জিম্মি" করে রেখেছেন।

