থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শনিবার দিনভর অবিরাম বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই ভারি বৃষ্টির কারণে প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শত শত মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরটির ৫০টি জেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংককের অনেক এলাকায় ৩০ সেন্টিমিটারের (১১.৮ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বন্যার পানি জমে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি ফেতচাবুরি রোড এখন প্রায় জনশূন্য। অনেক গাড়ি পানিতে আংশিক ডুবে থাকতে দেখা গেছে এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের পানি ঠেলে এগিয়ে যেতে হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকক থেকে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর কিছু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ২১টি প্রদেশের ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মুঠোফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যদিও কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিথিপুন্ত জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং বৃষ্টি কমলে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শহরজুড়ে ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রায় ৯০০ জন মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় ও পর্যটকরা এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা পর্যটক হোয়াং হোয়াং-চুং জানান, তিনি ১২ বার ব্যাংকক ভ্রমণ করলেও এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। স্থানীয় বাসিন্দা সুকানিয়া তোংসুক জানান, বর্তমান বন্যার ভয়াবহতা ২০১১ সালের বন্যার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। এদিকে, ডাচ নাগরিক বিয়র্ন ফ্রাঙ্কেন জানান, তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যদিও তার নির্ধারিত একটি অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্যার কারণে শনিবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

