১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের ৩-০ ব্যবধানের সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। হারারেতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজে তিনি ৫০, ২০ এবং ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ৮১ রানের ম্যাচ-জয়ী ইনিংসের সুবাদে তিনি ম্যাচ সেরা এবং সিরিজ সেরার পুরস্কার অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক পুরুষ ক্রিকেটে এই পুরস্কার জেতা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় এখন তিনি। ম্যাচ শেষে বৈভব বলেন, এটি তার জন্য একটি স্বপ্নের মুহূর্ত এবং তিনি এই অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত।
হারারেতে আগে থেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় এই ভেন্যুতে খেলতে তার সুবিধা হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈভব বলেন, দলের অধিনায়ক ও কোচসহ সবার সমর্থন তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার ব্যাটিং কৌশলের বিষয়ে তিনি জানান, অনুশীলনে যা করেন, ম্যাচেই কেবল তা প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। বিশেষ কোনো গোপন মন্ত্র নেই, বরং দলের প্রয়োজনে ভালো শুরু করে ইনিংস বড় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
ভারতের স্ট্যান্ড-ইন কোচ ভিভিএস লক্ষ্মণ বৈভবের পরিণত মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। লক্ষ্মণ বলেন, প্রতিটি ম্যাচ থেকে বৈভব নতুন কিছু শিখছে এবং তা নিজের খেলায় কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে স্লো উইকেটে জিম্বাবুয়ের বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে যেভাবে তিনি ব্যাট করেছেন, তা ছিল অত্যন্ত পরিপক্ক। ইংল্যান্ড সফরে জফরা আর্চারের গতির বিপরীতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর যেভাবে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তাতে লক্ষ্মণ অবাক নন।
কোচ আরও জানান, সেঞ্চুরি করতে না পারায় বৈভব কিছুটা হতাশ হলেও, তাকে বোঝানো হয়েছে যে তার সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। তবে উন্নতির জায়গা হিসেবে তার শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেসের ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচ চলাকালীন আঘাত পাওয়ার পরও মাঠে থাকার যে আগ্রহ সে দেখিয়েছে, তা তার কাজের প্রতি নিষ্ঠারই পরিচয় দেয়।
অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের নির্ভীক মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, টানা ম্যাচ খেলার মধ্যেও দলের খেলোয়াড়দের এমন এনার্জি ও লক্ষ্য থাকাটা জরুরি। তিনি সবসময় চেষ্টা করেন মাঠের খেলোয়াড়রা যেন আরামদায়ক ও চাপমুক্ত পরিবেশে খেলতে পারে, যা থেকে সেরা পারফরম্যান্স বেরিয়ে আসে।

