১৯৭৩ সালে বারমুডার হ্যামিল্টনে জন্ম নেওয়া লিনা হিডি একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, লেখক ও পরিচালক। ১৯৯২ সালে ‘ওয়াটারল্যান্ড’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘৩০০’, ‘টারমিনেটর: দ্য সারাহ কনর ক্রনিকলস’ এবং ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর মতো বিখ্যাত সব কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। গেম অফ থ্রোনসে সার্সি ল্যানিস্টার চরিত্রে তিনি ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অভিনয় করেছেন, যা তাকে পাঁচটি এমি মনোনয়ন এনে দেয়। বর্তমানে তিনি বিবিসি সাউন্ডস ও রেডিও ৪-এর জন্য ‘ইনটিমেসি’ শিরোনামের একটি কমেডি অডিও ড্রামা পরিচালনা ও রচনা করছেন।
নিজের শৈশব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লিনা জানান, তার বাবা-মা পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বারমুডায় থাকার পর তারা সমারসেটে ফিরে আসেন। শৈশবে তিনি বেশ স্বাধীনচেতা ও চঞ্চল ছিলেন। তিনি জানান, তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ২০ এবং ৩০ বছর বয়সগুলো বেশ কঠিন ছিল। অভিনয়ের প্রতি তার বিশেষ কোনো ঝোঁক ছোটবেলায় ছিল না, তবে স্কুল জীবনে নাটকের ক্লাসের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ১৭ বছর বয়সে একটি স্কুল নাটকে অভিনয়ের সময় কাস্টিং ডিরেক্টরদের নজর কাড়েন এবং ‘ওয়াটারল্যান্ড’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে লিনা হার্ভি ওয়েনস্টাইনের সাথে তার একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, হার্ভি ওয়েনস্টাইন তাকে একটি হোটেল রুমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার কি-কার্ড কাজ না করায় তিনি সফল হননি। লিনা বলেন, ‘আমি তরুণী, আত্মবিশ্বাসী এবং কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিলাম। যখন বুঝতে পারি কী ঘটছে, আমি তাকে সরাসরি না বলে দিই।’ এরপর থেকে মিরাম্যাক্স ফিল্মসের কোনো কাজ তাকে আর দেওয়া হয়নি। লিনার ভাষায়, ‘আমি মনে করি আমাকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছিল কারণ আমি তার কথা শুনিনি। প্রায় দেড় দশকের সম্ভাবনা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল।’
গেম অফ থ্রোনসের সার্সি চরিত্রটি পাওয়ার প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ৩৫ বছর বয়সে তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে এইচবিওর একটি ছোট রুমে অডিশন দেওয়ার সময় তিনি খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ অডিশনের মাঝেই এক নির্বাহী ফোন কল নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন চরিত্রটি হয়তো আর পাবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত হন। গেম অফ থ্রোনস তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়, তবে ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহবিচ্ছেদ ও মাতৃত্বের মতো পরিবর্তনের সাথে সাথে খ্যাতির বিড়ম্বনাও তাকে সামলাতে হয়েছে।
লিনা জানান, তিনি এখন আর খ্যাতির পেছনে দৌড়াতে চান না। অনেক সময় কাজের সুযোগ না পাওয়ার কারণ হিসেবে এজেন্টরা প্রচারণার অভাবকে দায়ী করলেও তিনি তা এড়িয়ে চলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন আর কারো নজর কাড়তে চাই না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমি এক ধরনের মুক্তি অনুভব করছি।’ নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই না আমার সন্তানদের সেই একই বেদনা বা সহিংসতার মুখোমুখি হতে হোক। আমি আমার মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা করি।’

