কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তিন গবেষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মীরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করেছেন, যা কোম্পানির নীতিমালার পরিপন্থী।
ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোম্পানির প্রতিষ্ঠিত কার্যপদ্ধতির বাইরে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্য নাড়াচাড়া করেছেন। এটি প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য অপরিহার্য বিশ্বাসের জায়গাটি নষ্ট করেছে। যদিও ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে যে তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা এবং এর থেকে মানবজাতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অনেক গবেষক ও শিল্প নির্বাহী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির ওপর আরও কড়াকড়ি বা গার্ডরেল আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওপেনএআই বর্তমানে বেশ চাপের মুখে রয়েছে, বিশেষ করে তাদের এআই মডেলগুলো অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করার পর। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনার সাথে তাদের মডেলের নাম জড়িয়েছে। জুলাই মাসে একটি এআই মডেল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ওপেন-সোর্স ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এ অনধিকার প্রবেশ করেছিল।
এই ঘটনার পর ওপেনএআই তাদের এআই এজেন্টগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। উল্লেখ্য, এই এআই এজেন্টগুলোকে সাধারণ নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ সপ্তাহে জানিয়েছে যে, তাদের সিস্টেমে অননুমোদিত কার্যকলাপের কারণে ১০০টিরও বেশি সংস্থাকে তারা নোটিশ দিয়েছে। তবে ওপেনএআই স্পষ্ট করেছে যে, এই নোটিশ পাওয়ার মানেই এই নয় যে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়েছে বা সিস্টেম হ্যাক হয়েছে।

