সকালে ঘুম থেকে ওঠা, কফি খাওয়া, কাজ করা কিংবা ব্যায়াম করা—বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে এই সাধারণ কাজগুলোর সাথে ‘গার্ল’ বা মেয়েলি তকমা জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। ‘গার্ল ডিনার’, ‘গার্ল ওয়াক’ বা ‘ক্লিন গার্ল মেকআপ’-এর মতো শব্দগুলো এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। লেখক মনে করেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে নিজের কাজকে ছোট করা বা নিজেকে শিশুসুলভ করে উপস্থাপন করা কেবল বিরক্তিকরই নয়, বরং এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।
এই ট্রেন্ডের শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে মেগান দি স্ট্যালিয়নের ‘হট গার্ল সামার’ গান এবং পরবর্তীতে মহামারীর সময় টিকটকের জনপ্রিয় ‘হট গার্ল ওয়াক’ ট্রেন্ডের মাধ্যমে। বর্তমানে এটি এতটাই সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কেউ যদি প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে এসব তকমা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে ‘কিলজয়’ বা আনন্দ নষ্টকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। প্যারিসে নিজের বোনের সাথে ভ্রমণে থাকাকালীন ‘গার্ল ডিনার’ নিয়ে লেখকের দীর্ঘ এক বিতর্কের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান যে, এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রতি তার তীব্র অনীহা রয়েছে।
অনেকে যুক্তি দেন যে, এই ট্রেন্ডটি নিছক মজা বা হালকা মেজাজের একটি প্রচেষ্টা, যা তরুণীদের ক্ষমতায়ন বা শৈশবের হারানো স্বাধীনতার প্রতিফলন হতে পারে। তবে লেখক মনে করেন, এটি মোটেও নিরীহ নয়। এটি মূলত ভোক্তাবাদের একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে, যেখানে নতুন নতুন ফ্যাশন ও পণ্য বিক্রির কৌশল হিসেবে এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি নারীদের নিজের অজান্তেই নিজেকে ছোট বা শিশুসুলভ (self-infantilising) করে তুলছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যখন নারীদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, তখন নিজের পরিচয়কে এভাবে ছোট করে দেখা বা ‘আমি তো কেবল একজন মেয়ে’—এই ধরনের মনোভাব পোষণ করা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। সিম্পসনস সিরিজের চরিত্র মালিবু স্টেসি যেমন নির্বিকারভাবে বলেছিল, ‘আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না, আমি তো কেবল একজন মেয়ে’, লেখক ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন, নারীদের এখন নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিতে অটল থাকা উচিত, কারণ বর্তমানের মেয়েরা তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।

