হারারেতে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে নারী দলকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল। ক্যারিশমা রামহারাক, অ্যাফি ফ্লেচার ও জাহজারা ক্ল্যাক্সটনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথমে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ৯৭ রানে আটকে রাখে ক্যারিবীয়রা। পরে ৪৩ বল হাতে রেখেই অনায়াস জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই রানের গতি বাড়াতে ধুঁকতে থাকে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ারপ্লেতে তারা মাত্র ২৭ রান তুলতে সক্ষম হয়। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শর্ন মেয়ার্সকে শূন্য রানে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন চিনেল হেনরি। আরেক ওপেনার মোদেস্টার মুপাচিকওয়া এক প্রান্ত ধরে রাখলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি, ৩৩ বলে ২০ রান করে আউট হন তিনি। অষ্টম থেকে একাদশ ওভারের মধ্যে মাত্র ১২ রান তুলতে গিয়ে ৩টি উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
কেলিস এনধলোভুকে নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ক্যারিশমা রামহারাক। দুই ওভার পর চিপো মুগেরি-তিরিপানোকেও সাজঘরে পাঠান এই স্পিনার। এরপর মুপাচিকওয়াকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১১তম ওভারে ৪ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত করেন অ্যাফি ফ্লেচার। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রান করেন বিলভড বিজা। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক জোসেফিন এনকোমোর সাথে তার গড়া ২৪ রানের জুটিটিই ছিল জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। তবে শেষদিকের ব্যাটাররা ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৯৭ রান তুলতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৭ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন ক্যারিশমা রামহারাক। এছাড়া জাহজারা ক্ল্যাক্সটন ১০ রানে ২টি এবং অ্যাফি ফ্লেচার ১৮ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। চিনেল হেনরি তার ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ছিলেন অত্যন্ত কিপটে।
৯৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝোড়ো সূচনা করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ইবোনি ব্রেথওয়েট। ১৪ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে তিনি উদ্বোধনী জুটিতে রিঅ্যালিয়ানা গ্রিমন্ডের সাথে ৩৮ রান যোগ করেন। পাওয়ারপ্লেতেই ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর গ্রিমন্ড ও জাহজারা ক্ল্যাক্সটন দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। গ্রিমন্ড ২৫ বলে ৩৪ রান করে জয়ের ঠিক ১ রান আগে আউট হলেও, পরের বলেই স্টেফানি টেলর ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন। ক্ল্যাক্সটন ৩৭ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারে ২২ রানে ১টি এবং বিজা ১০ রানে ১টি উইকেট নেন।

