বার্সেলোনা, চেলসি এবং আর্সেনালের মতো ক্লাবে খেলা সেস্ক ফ্যাব্রেগাস তার খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোমোর কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ফ্যাব্রেগাস জানিয়েছেন, বেশ কিছু প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তিনি তার সহজাত প্রবৃত্তির ওপর আস্থা রেখেই কোমোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ট্রেন্টোর 'ফেস্তিভাল দেল্লো স্পোর্ট' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কখনও কখনও নিজের প্রবৃত্তির সিদ্ধান্তই সেরা হয়। মজার ব্যাপার হলো, এর আগে ছুটিতে কয়েকবার কোমোর কাছাকাছি গেলেও তিনি জানতেনই না যে সেখানে কোনো ফুটবল দল রয়েছে।
ফ্যাব্রেগাসের হাত ধরে কোমো সিরি বি থেকে উঠে এসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই পুরো যাত্রায় তার সাথে থাকা লুকাস দা কুনহার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফ্যাব্রেগাস। তিনি বলেন, দা কুনহার অবিশ্বাস্য মানসিকতা এবং ক্ষুধার কারণেই সে আজ ফ্রান্সের জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে। ফ্যাব্রেগাস সবসময়ই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের চেয়ে ক্ষুধার্ত খেলোয়াড়কে বেশি গুরুত্ব দেন, যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়তে চায়।
কোচিং দর্শনের ক্ষেত্রে ফ্যাব্রেগাসের মূল লক্ষ্য হলো নিজের পরিচয় বা আইডিয়া বজায় রাখা। তিনি বলেন, প্রতিটি ম্যাচের আগে আমি নিজেকে একটি প্রশ্ন করি—আমি কীভাবে হারতে চাই? আমি আমার নিজস্ব আদর্শ নিয়েই হারতে চাই। কারণ নিজস্ব পরিচয় বিসর্জন দিয়ে হারলে সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ হয়। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও নিজের দর্শনের ওপর অটল থাকাই তার লক্ষ্য।
২০২৩ সালে কোচিং শুরু করলেও ফ্যাব্রেগাস মনে করেন, তার খেলোয়াড়ি জীবনের অনেক আগেই এই কাজের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে চেলসিতে আন্তোনিও কন্তের অধীনে খেলার সময় তিনি ফুটবলের পরিবর্তনের বিষয়টি উপলব্ধি করেন। ফ্যাব্রেগাস বলেন, ২৯ বছর বয়সে অনেক কিছু জেতার পরও কন্তের কাছে আমি নতুন কিছু শিখেছি। আর্সেনালে আর্সেন ওয়েঙ্গার বা দেল বোস্কের মতো কিংবদন্তি কোচরাও কৌশল নিয়ে এতটা কাজ করতেন না, যা কন্তে করতেন।
তিনি আরও জানান, কন্তে ছোটখাটো বিষয়েও অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। শুরুতে এটি তার কাছে অবাক করার মতো ছিল, কারণ কাউকে তাকে বলে দিতে হতো না কোথায় পাস দিতে হবে। অনুশীলনের পর কন্তের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলা এবং পরে তার সমালোচনা ফ্যাব্রেগাসকে শিখিয়েছে যে ফুটবল কীভাবে বদলে যাচ্ছে। ফ্যাব্রেগাস একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ১০ দিনের প্রশিক্ষণের পর ফুল-ব্যাক আমাকে বল পাস দিলে আমি দ্রুত সেটি দিয়েগো কস্তাকে দিই এবং সে গোল করে। আমি ভেবেছিলাম আমি ভালো করেছি, কিন্তু ম্যাচ শেষে কন্তে চিৎকার করে বলছিলেন যে কাজগুলো যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। বর্তমানে কোচ হিসেবে ফ্যাব্রেগাস তার সতীর্থদের সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়েন, যার উদাহরণ হিসেবে এসি মিলানের ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির সাথে তার মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করা যায়।

