ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকুলে থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিয়েছে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর শহরটি থেকে পিছু হটার ঘোষণা দেয় বিদ্রোহী দলটি। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, টিপিএলএফ যোদ্ধারা শহর ছেড়ে যাওয়ার পর সেখানে সরকার সমর্থিত বাহিনী প্রবেশ করেছে।
গত মাসে টিপিএলএফ মেকুলে বিমানবন্দর এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। তবে ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে তারা এলাকাটি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ২০২২ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছিল। টিপিএলএফ-এর চেয়ারম্যান দেবরেৎসিয়ন গেব্রেমিকেল জানিয়েছেন, চলমান লড়াই তাদের আগের যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা এবং তারা তিগ্রাইয়ের সুরক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবেন। টিপিএলএফ মূলত ১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়া শাসন করা জোটের প্রভাবশালী শক্তি ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিলমন একুয়ার হাইলু জানিয়েছেন, টিপিএলএফ যোদ্ধারা হালকা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শহর ছেড়েছে। একই সময়ে সেখানে টিগ্রাই পিস ফোর্সের ছোট দলগুলোকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, টিপিএলএফ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, যিনি ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন, তিনি গত কয়েক মাস ধরে বিদ্রোহীদের দমনের চেষ্টা করলেও সফল হননি। বর্তমানে মেকুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা টিগ্রাই পিস ফোর্সের হাতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, সংঘাতের কারণে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সংঘাতের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। ইথিওপিয়া সরকার টিপিএলএফ-কে এরিত্রিয়া ও মিশরের মদদ পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, ইথিওপিয়া তাদের এরিত্রিয়ার দূতাবাস বন্ধ করে ১০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। এর জবাবে এরিত্রিয়াও ইথিওপিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। মিশর টিপিএলএফ-কে সমর্থনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

