প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৮ আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৯
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মেগা প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প’ দীর্ঘ ৩১ বছরেও বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ১৯৯৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যার চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত এই বিশাল আবাসন প্রকল্পটি বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সমন্বয়হীনতা এবং চরম নাগরিক সুবিধার অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় ৬,২২৭ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো মৌলিক সেবার তীব্র সংকট রয়েছে।
কাগজে-কলমে প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। প্লট মালিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত এবং দফায় দফায় প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের ফলে কাজের কোনো ধারাবাহিকতা ছিল না। পূর্বাচলের লে-আউট বা মহাপরিকল্পনা দফায় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে, যা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের পরিচায়ক। কখনো স্টেডিয়ামের স্থান পরিবর্তন, আবার কখনো বাণিজ্যিক জোনের লে-আউট বদলানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্মিত রাস্তা বা ড্রেন ভেঙে আবার নতুন করে বড় পরিসরে (যেমন ৪ লেন থেকে সড়ক প্রশস্তকরণ বা আন্ডারগ্রাউন্ড ইউটিলিটি লাইনের জন্য রাস্তা খোঁড়া) কাজ করা হয়েছে। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোয় শেষ পর্যন্ত আর্থিক চাপ পড়েছে প্লট গ্রহীতাদের ওপরই। এছাড়া শুরু থেকেই ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয়দের পুনর্বাসন নিয়ে আইনি মারপ্যাঁচে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা নাঈম আহমেদ জানান, নিরাপত্তার অভাব এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেক মালিক ভবন নির্মাণ করতে ভয় পাচ্ছেন। ২৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা সজিব মৃধা বলেন, স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারের মতো মৌলিক অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় এখানে স্থায়ী জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জনশূন্যতার সুযোগে এলাকাটি এখন চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
পরিবর্তনশীল মহাপরিকল্পনা সরকারি অর্থের বড় অপচয় ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্টেডিয়াম বা বাণিজ্যিক জোনের স্থান পরিবর্তন এবং বারবার রাস্তা খুঁড়ে পুনরায় নির্মাণের ফলে প্রকল্পের মূল নকশা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ১ জুলাই ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের সময় আইজিপি জানিয়েছেন, এলাকাটিতে ডিএমপির চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র ও ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন ও সমস্যা সমাধানের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

