রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মস্কোকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাইবেরিয়ায় একটি ল্যাবরেটরি কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েক ডজন মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই রোগটিকে একটি "কঠিন ব্যাধি" বলে বর্ণনা করেন।
গত ৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "আমরা সাহায্য করব। এই ধরনের সমস্যায় পড়া যে কাউকেই আমরা সবসময় সাহায্য করব।" তিনি আরও বলেন, "তাদের এই অবস্থা দেখে আমার খারাপ লাগছে। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি রোগ। কোনোভাবে এই জীবাণুগুলো ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এগুলো যেন একটি সেনাবাহিনীর মতো।"
রাশিয়া থেকে এই প্লেগ যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, "ওরা এটিকে নিউমোনিয়া বলছে। কয়েক বছর আগে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করা সহজ ছিল। কিন্তু জীবাণুগুলো এখন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তবে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।"
একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, "আমি মনে করি না যে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ আছে, তবে এটি মনোযোগ দেওয়ার মতো একটি বিষয় এবং এর ওপর আমাদের কড়া নজর রাখা প্রয়োজন।"
রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার এই আশঙ্কার সূত্রপাত হয় যখন সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যের 'ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট'-এর ২০ বছরের কোঠার শেষের দিকে থাকা এক নারী কর্মী অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়নি। রাশিয়ার স্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক সংস্থা 'রসপোট্রেবনাডজর' এই মৃত্যুকে "অজ্ঞাত উৎসের নিউমোনিয়া" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই ঘটনার পর রুশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত মহামারি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইরকুটস্ক শহরে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা কয়েক ডজন মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের মেডিকেল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী শেলিঝভ শহরের মেয়র মাক্সিম মোডিন ৫ অক্টোবর জানান, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
