দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলায় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওমানের নাগরিক ওই সহ-পাইলট বিমানটিকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর কিংবা শহরের কোনো বহুতল ভবনে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘটনাটি গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ঘটে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সহ-পাইলট একজন 'লোন উলফ' বা একাকী চরমপন্থী। তিনি ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ করে আহত করেন। এরপর যাত্রীদের সহায়তায় তাকে কাবু করা হয় এবং বিমানের অন্য ক্রু সদস্যরা নিরাপদে সৌদি আরবে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল এই ঘটনাকে একটি 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ক্যাপ্টেন, যাত্রী এবং অন্য ক্রু সদস্যরা মিলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মতো একটি বড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ওই সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেনকে আঘাত করার পর তিনি বিমানটিকে স্বাভাবিক গতিতে ইসরায়েলি আকাশসীমায় নিয়ে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে অবতরণের অনুমতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ১৮০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। এর আগেও তিনি এমন একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু বিমানে পরিচিত কেউ থাকায় তা বাতিল করেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির প্রশ্ন উঠেছে। ওমানের ওমান এয়ারে চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে তাকে বিমান চালনা থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়, তবে তাদের নিরাপত্তা পরীক্ষায় তার অতীত বা চরমপন্থার কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি। এছাড়া ইসরায়েলি নিয়ম অনুযায়ী, যে দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নেই।
এই ঘটনায় ইসরায়েলি ও আমিরাতি কর্তৃপক্ষের মধ্যে যাত্রী ও ক্রু তালিকা শেয়ার করা নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপ চলছে। ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রী মিরি রেগেভ দাবি করেছেন, তার মন্ত্রণালয়কে কোনো তালিকা দেওয়া হয়নি এবং এর দায়ভার শিন বেত ও মোসাদের। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে ইসরায়েলের দিকে আসা বিদেশি বেসামরিক বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ ওই সহ-পাইলটের সাথে দেশটির কোনো সংযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেছেন।

